মধ্যপ্রাচ্যে পম্পেওর সফরের মধ্যেই ইসরাইলকে কড়া বার্তা ওআইসির

আরব ও ফিলিস্তিনের ভূমি দখল বন্ধ না করা পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা হবে না বলে জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করণের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সফরের মধ্যেই এমন ঘোষণা দেয় ওআইসি।

সোমবার ওআইসি মহাসচিব ইউসুফ আল-ওথামিন এক বিবৃতিতে বলেন, আল-কুদসসহ (জেরুজালেম) ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত আরব ও ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে ইসরাইলের দখল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত- এই সংস্থার সদস্য দেশসমূহ ও ইসরাইলি দখলদার রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হবে না।

এ সময় আল-ওথাইমিন জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিষয়টি এর মূল কারণ।

২০০২ সালের আরব শান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত সাংবিধানিক পছন্দ, ঐতিহাসিক সুযোগ ও সাধারণ ভিত্তি গঠনের মাধ্যমে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়বিচার ও বিস্তৃত সমাধানের ভিত্তি হতে পারে।

২০০২ সালে বৈরুতে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের স্বাভাবিক সম্পর্ক গঠনের উদ্দেশ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে তেল আবিবের সঙ্গে শান্তি রক্ষায় ১৯৬৭ সাল থেকে সব আরব দেশের অধিকৃত ভূমি ছেড়ে দিতে, পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনিদের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও শরণার্থী সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করে ইসরাইলকে চিঠি দেওয়া হয়।

কিন্তু ইসরাইল সরকার সে উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রস্তাবটিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার কথা জানায়।

সম্প্রতি আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইলের স্বাভাবিক সম্পর্ক করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে মধ্যস্থতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের ভূখণ্ডে উভয়ে দূতাবাস খোলার কথা বলা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত তৃতীয় দেশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করণের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিসর ও ১৯৯৪ সালে জর্ডান ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

ইসরাইল ও আরব আমিরাতের এ চুক্তি ফিলিস্তিনি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য কাজ করছে না বরং ফিলিস্তিনিদের অধিকার উপেক্ষা করছে।

সূত্র: ইয়েনি শাফাক