ভূমধ্যসাগর নিয়ে ফ্রান্স প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে পাল্টা ব্যবস্থা তুরস্কের

পূর্ব ভূমধ্যসাগর নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর বক্তব্যে সমালোচনা করেছে তুরস্ক। বিরোধীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত করার অভিযোগে রোববার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সমালোচনা করে বিবৃতি দেয়।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একটি রেড লাইল অঙ্কন করার চিন্তা করছে, তারা আমাদের দেশের দৃঢ় অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার ম্যাক্রো বলেছিলেন, তিনি জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে গ্রিসকে সমর্থন জানিয়ে এই অঞ্চলে একটি রেডলাইন নীতি গ্রহণ করেছেন।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান নিয়ে গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের বিরোধ চলে আসছে। আঙ্কারা বলছে, তুরস্কের সামুদ্রিক অঞ্চলের ভিত্তি রেখায় তুর্কি উপকূলের কাছে ছোট একটি দ্বীপের কাছে তারা অনুসন্ধানের কাজ করছে।

তুর্কি সংবাদ মাধ্যম জানায়, ভূমধ্যসাগরের দীর্ঘতম উপকূলরেখার তুরস্ক ও তুর্কি প্রজাতন্ত্র উত্তর সাইপ্রাস (টিআরএনসি) উভয়েরই এই অঞ্চলে অধিকার রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদি এই অঞ্চলে একটি লাল রেখা (রেড লাইন) থাকে, তবে এটি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে তুরস্ক ও তুর্কি সাইপ্রিয়টের অন্তর্ভুক্ত।

যে কেউ রণতরী মোতায়েনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের অধিকার ও স্বার্থ হস্তান্তর করতে চাইলে তাকে আটকাতে তুরস্ক যথেষ্ট শক্তিশালী-যোগ করা হয় ওই বিবৃতিতে।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে বিরোধ ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত উসকানির মাধ্যমে নয় বলে বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে দেশটির ৯৮তম বিজয় দিবসের ভাষণে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না।

সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মিসর ও সাইপ্রাস বড় জ্বালানি খনির সন্ধান পেয়েছে। এর পরই তুরস্ক ওই এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ পাওয়ার জন্য অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে ওঠে। এ নিয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

সূত্র: ইয়েনি শাফাক