ভারত সীমান্তে চীনের অত্যাধুনিক জে-২০

গত মে মাসে চীন-ভারত সীমান্ত সঙ্ঘাতের পর থেকে প্রথমবারের মতো চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিমানবাহিনীর দুটি জে-২০ স্টিলথ জঙ্গিবিমান সীমান্ত অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের একটি বিমানবন্দরে দেখা গেছে বলে বিদেশী মিডিয়া জানিয়েছে।

তবে চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞরা মঙ্গলবার বলেছেন যে এই মোতায়েন সত্য হলেও তা বিমানের নিয়মিত দূরপাল্লার ফ্লাইট ও পরিবেশগত খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ। বিদেশী মিডিয়ার উচিত হবে না সীমান্ত উত্তেজনার সাথে এর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে বাড়াবাড়ি রকমের কোনো ব্যাখ্যা দেয়া। আর সীমান্ত উত্তেজনাও হ্রাস পাচ্ছে।

একটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবির উদ্ধৃতি দিয়ে সোমবার ফরবেসে খবর প্রকাশিত হয় যে দুটি জে-২০ সাময়িকভাবে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় চনিা জিনজিয়াং ইউঘুর স্বায়াত্তশাসিত অঞ্চলের হতান বিমানবন্দরে দেখা গেছে। সীমান্ত অঞ্চল থেকে বিমানবন্দরটি ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই অঞ্চলে ভারতের সাথে বিরোধের প্রেক্ষাপটে প্রাধান্য বিস্তারের ইঙ্গিত এই বিমান মোতায়েন। এতে আরো বলা হয়, চীনা বাহিনী এইচ-৬সহ অন্যান্য বিমানও মোতায়েন করছে জিনজিয়াঙ বিমানবন্দরে। আর ভারত মোতায়েন করেছে সু-৩০ ও মিগ-২৯।

হতান বিমানবন্দরে কোনো জে-২০ মোতায়েন করার কথা ঘোষণা করেনি পিএলএ।জে-২০ হলো দূরপাল্লার ভারী জঙ্গি বিমান। ফলে হতনে এগুলো মোতায়েন করার মানে এগুলো মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মতো অনেক এলাকা কভার করতে পারবে।

তবে বিদেশী মিডিয়ার উত্তেজনাকর এই অঞ্চলের এর সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। এর মোতায়েন সম্ভবত দূরপাল্লার ফ্লাইট ও পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার স্বাভাবিক প্রশিক্ষণের অংশবিশেষ। এমন মন্তব্য করেছেন চীনা সামরিক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ফু কিয়ানশাও।

তিনি মঙ্গলবার বলেন, চীন একটি বিশাল দেশ। এর অনেক অঞ্চলে অসংখ্য বিমানবন্দর আছে। এসবের পরিবেশও ভিন্ন ভিন্ন। ফলে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য জে-২০ বিমানকে উড়তে হয়।বিশ্লেষকেরা বলছেন, সীমান্ত উত্তেজনা ইতোমধ্যেই প্রশমিত হতে শুরু করেছে, বিদেশী মিডিয়ার প্রতিবেদনের সুদূরপ্রসারী কোনো লক্ষ্য থাকতে পারে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সোমবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমর্থন সঠিক পথেই রয়েছে। আর তা হচ্ছে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যভাবেই।

চীন পারস্পরিক রাজনৈতিক বিশ্বাস, যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনায় থাকা পার্থক্য, বিচক্ষণ সহযোগিতা জোরদার করা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে কাজ করতে আগ্রহী ভারতের সাথে।

চীন ও ভারতের সিনিয়র সামরিক পর্যায়ের বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তারা সীমান্ত থেকে সৈন্য প্রত্যাহারে রাজি হয়েছে।জে-২০ হলো চীনের সবচেয়ে আধুনিক স্টিলথ জঙ্গি বিমান। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ ও এফ-৩৫-এর মানের বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

ভারত জুলাই মাসে ফ্রান্সের কাছ থেকে ৫টি রাফাল জঙ্গি বিমান গ্রহণ করে। ভারতীয় মিডিয়া গর্ব করে জানাচ্ছে যে এগুলো জে-২০-এর চেয়ে উন্নত। তবে চীনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাফাল হলো স্রেফ তৃতীয়+ প্রজন্মের জঙ্গি বিমান, এগুলো জে-২০-এর মতো স্টিলথ, চতুর্থ প্রজন্মের বিমানের বিরুদ্ধে তেমনভাবে দাঁড়াতে পারবে না।