ভারতে করোনা পরিস্থিতিতে ‘নিট’ ও ‘জেইই’ পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন

ভারতে করোনা পরিস্থিতি চলায় ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (এনইইটি) এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (জেইই) পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এসব পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল চলমান করোনা সংকটকালে পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে মাঠে নেমেছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্কের দাবি, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় বসার ইচ্ছে রয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস আজ ওই ইস্যুতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে ধিক্কার জানিয়ে উক্ত পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেছেন, ‘বিজেপি সরকারের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব ‘নিট ও জেইই’ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৫ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। বিজেপি সরকারের উচিত তাঁদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।

পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, ‘এই মহামারী চলাকালীন সময়ে ওই পরীক্ষাগুলো নেয়া বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে, কেননা ২৫ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেবে। আমরা নিট ও জেইই পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি।’

এরআগে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে, পরীক্ষা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ১১ রাজ্যের ১১ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু গত ১৭ আগস্ট তাঁদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানায়, ‘জীবন থেমে থাকে না। সতর্কতা মেনে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। শিক্ষার্থীরা কী একটা বছর নষ্ট করার পক্ষে? কোভিড হয়ত আরও একবছর থাকবে। ততদিন কী অপেক্ষা করবেন আপনারা?’

কিন্তু আদালতের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করায় মহামারী পরিস্থিতিতে পরীক্ষার বিরোধিতায় বিরোধীরা একজোটে সোচ্চার হয়েছেন।

আজ (শুক্রবার) সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, ছত্তিসগড় এবং ঝাড়খণ্ডের একজন করে মোট ছয়জন মন্ত্রী যৌথভাবে পরীক্ষার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে। পশ্চিমবঙ্গের হয়ে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করছেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক।

আদালতে তাঁরা জানান, বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য যানবাহন এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বন্দোবস্ত করা প্রায় অসম্ভব। সেজন্য যে সমস্ত শিক্ষার্থী নিট এবং জেইই পরীক্ষায় বসতে আগ্রহী, তাদের নিরাপত্তা এবং জীবনের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আপাতত পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত।