ভারতে একদিনে করোনায় ১,০৯২ জনের মৃত্যু

ভারতে একদিনে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত একদিনে মৃতের সংখ্যার নিরিখে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। দেশে এ পর্যন্ত মোট ৫২ হাজার ৮৮৯ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আজ (বুধবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে ওই তথ্য জানা গেছে।

সরকারি সূত্রে প্রকাশ- গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ হাজার ৫৩১ জন নতুনভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। দেশে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৩ জন। করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বেড়ে ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭০ জনে পৌঁছেছে।

এরফলে বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৪ জন। বর্তমানে এদেরকে হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্র অথবা হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। করোনায় সুস্থতার হার বেড়ে ৭৩.৬৪ শতাংশ হয়েছে এবং মৃত্যু হার কমে ১.৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আক্রান্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) সূত্রে প্রকাশ, গতকাল (মঙ্গলবার) ৮ লাখ ১ হাজার ৫১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৩ কোটি ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, চিকিৎসার পরে করোনা পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ আসার পরেও এসব মানুষজন নতুনভাবে অন্য নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন যা কার্যত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনায় গুরুতর আক্রান্তরা ছাড়াও সামান্য এবং মাঝারি উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদেরও করোনামুক্তির পরে ক্লান্তি, উদ্বেগ, অবসাদ, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এরকমই কিছু সমস্যা নিয়ে গত (সোমবার) রাতে দিল্লির ‘এইমস’-এর পোস্ট-কোভিড ওয়ার্ডে ফের ভর্তি হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহও। সম্প্রতি তিনি এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে করোনা মুক্ত হয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে ফুসফুস, হার্ট, মানসিক স্বাস্থ্যে বড়সড় প্রভাব পড়ছে। বাড়ছে দীর্ঘস্থায়ী ঝুঁকিও। কোলকাতার ফর্টিস হাসপাতালের ফুসফুস রোগ বিভাগের প্রধান, পালমনোলজিস্ট রাজা ধর বলেন, ‘গুরুতর আক্রান্তরা ছাড়াও, অনেক মাইল্ড, মডারেট রোগীরও ফুসফুসে ক্ষত হয়ে আইএলডি বা ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ হয়ে যাচ্ছে।

ফাইব্রোসিস হয়ে ফুসফুসের সংকোচন-প্রসারণের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকছে। এর পাশাপাশি হৃদযন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হচ্ছে অনেকের।’

মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের কিছু হাসপাতালে ৪০ শতাংশ রোগী ফুসফুসে ফাইব্রোসিস সমস্যা নিয়ে ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের শ্বাসকষ্ট ও শুকনো কাশি জাতীয় সমস্যা রয়েছে।

বম্বে হাসপাতালের ডা. গৌতম ভানুশালী বলেন, ‘রোগীর রিপোর্ট নেতিবাচক আসার পরে পরবর্তীতে ফুসফুসের ফাইব্রোসিসের মতো সমস্যা নিয়ে আসছেন যা এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যানের পরে নিশ্চিত হচ্ছে।

সাইফি হাসপাতালের ডা. দীপেশ আগরওয়ালের মতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রোগী এই সমস্যায় ভুগছেন। কিছু রোগীর হার্টের সমস্যা আছে।

পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে করোনামুক্ত রোগীরা কেমন আছেন তা জানতে ফলোআপ আউটডোর চালু হয়েছে। প্রতি বুধবার সেখানে গড়ে ৫০ জন করে রোগী দেখছেন আইডি’র বিশেষজ্ঞরা।

কোভিড চিকিৎসার নোডাল কর্মকর্তা ও ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘কোভিডের কারণে যাঁদের নিউমোনিয়ার সংক্রমণ হয়েছিল, তাঁদের ২০ শতাংশের ফুসফুস সমস্যা করছে।’ এসব রোগীদের পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারও (পিটিএসডি) দেখা যাচ্ছে বলেও ডা. কৌশিক চৌধুরী মন্তব্য করেন।