ভারতে আশুরার তাজিয়া মিছিলের অনুমতি দিল না সুপ্রিম কোর্ট

ভারতে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আশুরার তাজিয়া মিছিলের অনুমতি দিলো না সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ আজ (বৃহস্পতিবার) বলেন, ‘সাধারণভাবে গোটাদেশ জুড়ে মহররমের শোভাযাত্রার জন্য অভিন্ন অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, সেক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ আরো বলেন ‘কোভিড-১৯’ সংক্রমণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে দোষারোপ করা হবে। আমরা বর্তমান পরিস্থিতিতে মহররমের শোভাযাত্রার অনুমতি দিয়ে একটি ধর্মীয়গোষ্ঠীকে সমস্যায় ফেলতে চাই না।’

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিশিষ্ট শিয়া আলেম মাওলানা কালবে জাওয়াদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আশুরার তাজিয়া মিছিলের আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালতে আবেদনকারী মাওলানা কালবে জাওয়াদের আইনজীবী তাঁর সাফাইতে বলেন, সম্পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করে, জুলুস বের করার অনুমতি দেওয়া হোক। তিনি বলেন, যেভাবে পুরীতে রথযাত্রার অনুমতি ছিল, জৈন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল মহররমের ক্ষেত্রেও তা করা উচিত।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ওই সাফাই খারিজ করে আজ জানায়, দু’টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট এলাকার জন্য কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তা সারা দেশ জুড়ে কার্যকরী ছিল না। পুরীর রথযাত্রা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ওই রথ একটিমাত্র শহরের নির্দিষ্ট একটি স্থান থেকে বের হয়।

একটি নির্দিষ্ট রুট ধরে তা যায়। সেক্ষেত্রে রথযাত্রায় ঝুঁকির মাত্রা আঁচ করা যায়। কিন্তু সমস্যা হল, আপনি গোটা দেশে মহররমের মিছিলের অনুমতি চাচ্ছেন। আমরা রাজ্য সরকারগুলোর কাছ থেকে না শুনে গোটা দেশে কার্যকর হওয়ার জন্য রায় দিতে পারি না। এরচেয়ে বরং ভালো হবে প্রত্যেক জায়গার সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে নিতে দেওয়া হোক।’

আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, লক্ষনৌতে শিয়া মুসলিমরা বেশি সংখ্যায় বাস করেন। কমপক্ষে সেখানে জুলুস বের করার অনুমতি দেওয়া হোক। এব্যাপারে প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি কেবল লক্ষনৌয়ের বিষয় হয় তাহলে আপনারা এলাহাবাদ হাইকোর্টে যেতে পারেন।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক নারিকেল বেড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলও এ বছর বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ করোনা পরিস্থিতির কথা ভেবে তাজিয়া মিছিলের অনুমতি দেয়নি।

এ ব্যাপারে আজ (বৃহস্পতিবার) নারিকেল বেড়িয়া কারবালা কমিটির সম্পাদক সৈয়েদ মদত আলী  বলেন, ‘প্রশাসন থেকে মিছিলের অনুমতি না দেওয়ায় আমরা নিজেরাই ঐতিহ্যবাহী মিছিল বন্ধ রেখেছি। দিল্লির নিজামুদ্দিনের তাবলিগ জামাতের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যা হল, তারা নির্দোষ হলেও যেভাবে করোনা ইস্যুতে দোষারোপ করা হল সেসব কথা মাথায় রেখে এবছর তাজিয়া মিছিল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যা কিছু হবে নিজ নিজ গ্রামে হবে।