ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের প্রশ্ন, পাল্টা জবাব বিজেপি’র

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই ঘটনায় বিজেপি’র পক্ষ থেকে পাল্টা জবাবে প্রমাণ দাবি করা হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারের বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক এমপি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। গত ১৬ জুলাই সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য ও অসম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি রিপুন বরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে বলেছেন, আমি আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, নিশীথ প্রামাণিকের প্রকৃত জন্মস্থান ও নাগরিকত্বের বিষয় নিয়ে স্বচ্ছভাবে একটি তদন্ত করা হোক। যে বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে সন্দেহ দেখা দিয়েছে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক।

রিপুন বরা প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর উল্লেখ করে দাবি করেছেন, নিশীথ প্রামাণিক আদতে বাংলাদেশের পলাশবাড়ির হরিনাথপুরের বাসিন্দা। ভারতে কম্পিউটার কোর্স করার নামে আসার পরে কুচবিহারে থেকে যান। প্রথমে তৃণমূলে এবং পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি এমপি হন। রিপুন বরার দাবি, যে নথি দেখিয়ে নিজেকে কুচবিহারের বাসিন্দা বলে নিশীথ দাবি করেছেন তা ভুয়ো।

জালিয়াতি করে তা তৈরি বলেও অভিযোগ করেছেন, অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি রিপুন বরা এমপি।অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের দুই মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং ব্রাত্য বসু এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা কংগ্রেস নেতা রিপুন বরার চিঠি উল্লেখ করে তাঁদের দাবি, কোনও বিদেশি নাগরিক দেশের মন্ত্রী হলে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তর্কের খাতিরে অভিযোগ মেনে নিলেও এটা তো ঠিক যে, নিশীথ হিন্দু। বিজেপি মনে করে, সব হিন্দুই ভারতীয়।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই। দরকার হলে তৃণমূল এটা নিয়ে আদালতে যাক।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের কেুচবিহার জেলা সভাপতি ও সাবেক এমপি পার্থপ্রতীম রায় বলেন, ‘নিশীথ প্রামণিক বাংলাদেশের কৃতী সন্তান না ভারতের কৃতী সন্তান সেই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি রয়েছেন আর এই ধরনের বিষয় উঠছে, বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আমরাও এই বিষয়টি দলগতভাবে দলনেত্রীকে জানাব। সাধারণ মানুষ জানতে চাচ্ছে তাঁর জন্মস্থান কোথায়? এই বির্তকের অবসান হওয়া দরকার।

রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা জবাবে বলেছেন, অভিযোগ করলেই তা প্রমাণ হয় না। সারবত্তা থাকলে মানুষের সামনে আনুন। অভিযোগ করে প্রচারের আলোয় আসা বা চর্চায় আসা নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা, এটা খুব একটা সুস্থ ভাবনা নয়।

সূত্রঃ পার্সটুডে