‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যাতে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে’

হঠাৎ করেই ঢাকায় সফরে এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে শ্রিংলা ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

সাধারণত এমন সফরের পূর্বে ঘোষণা দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এবার কোনো ধরনের ঘোষণা না দিয়েই ঝটিকা সফরে ঢাকায় চলে এলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। তার হঠাৎ এই সফর নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন, করোনা ভ্যাকসিন ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে শ্রিংলার এই সফরে আলোচনা হবে।

সচিব বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অনেক গভীর। এ সম্পর্কে যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সেজন্য যত্ন নেয়া লাগে। এছাড়া সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে কিছু কাল্পনিক সংবাদ হয়েছে, সেগুলো নিয়েও কথা হবে; যাতে সম্পর্কে কোনো গ্যাপ (ফাঁকফোকর) না থাকে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রচুর ইন্টারেকশন (আলোচনা) হয়। করোনার কারণে সে হিসেবে এ বছর কমই হয়েছে। সব সময় আলোচনায় সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি থাকে। এছাড়া কোভিড নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, তাদের (ভারত) দেশে এখন করোনার ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। ভ্যাকসিন নিয়ে আমরা কে কোন পর্যায়ে আছি- সেটা নিয়ে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশ সফর শেষে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সরাসরি মিয়ানমারে যাবেন। তাই সেখানে যাওয়ার আগে শ্রিংলার সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, হতে পারে। তারা তো এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতার কথা বলে আসছে। তারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করছে যাতে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন হতে পারে। আমরা এ বিষয়ে আপডেট জানতে চাইতে পারি।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শ্রিংলার সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মূল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে।

এ সময় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। মহামারীর মধ্যে শ্রিংলার আকস্মিক এ সফরকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

একজন ওয়াকিবহাল কূটনীতিক  বলেন, ‘কোভিড-১৯ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতার বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেবেন শ্রিংলা’।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু না জানিয়ে তিনি শুধু এটুকু বলেন- মহামারী পরিস্থিতির মধ্যেও শ্রিংলার সফরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কূটনৈতিক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে। তবে সহযোগিতার সার্বিক বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব মূল্যায়ন করবেন।

করোনাভাইরাসের মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশে চীনের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার আলোচনার মধ্যে শ্রিংলার এ সফর।