ব্রিটেনের অর্থ ফেরত দেয়ার সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদের মুক্তির সম্পর্ক নেই: ইরান

ব্রিটিশ সরকার ইরানের চার দশকেরও বেশি সময়ের পুরনো পাওনা পরিশোধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সঙ্গে ইরানে আটক দ্বৈত নাগরিকদের মুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে তেহরান।

১৯৭৪ সালে ইরানের কাছে ১,৫০০টি চিফটেন ট্যাংক বিক্রি এবং ১৯৭৬ সালে ২৫০টি সাঁজোয়া যান বিক্রি বাবদ তেহরানের কাছে লন্ডনের ৪৫ কোটি পাউন্ড দেনা রয়েছে। ব্রিটিশ সরকার চার দশকেরও বেশি সময় আগে ওই অর্থ গ্রহণ করলেও সমরাস্ত্রগুলো তেহরানকে সরবরাহ করেনি।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, তার সরকার ইরানকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য।তবে লন্ডন বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আইন সমাধানের পথ খুঁজছে বলেও জানান তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবযাদে এ সম্পর্কে আইআরআইবি’কে বলেছেন, কেউ কেউ বিষয়টিকে ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক নজানিন জাগেরির মুক্তির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করে ফেলার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকার এরইমধ্যে এই অর্থ ইরানকে পরিশোধ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট দেরি করে ফেলেছে এবং দ্বৈত নাগরিকদের মুক্তি হোক বা না হোক এই অর্থ লন্ডনকে পরিশোধ করতেই হবে।

নজানিন জাগেরি ইরানের ফৌজদারি আইনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তিনি তার কারাদণ্ড ভোগ করছেন জানিয়ে খাতিবযাদে বলেন, তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া না দেয়া ইরানের বিচার বিভাগের বিষয় এবং বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে। এই দু’টি বিষয়কে গুলি ফেলার চেষ্টা অবান্তর বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নজানিন জগারিকে ২০১৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।