বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে এফবিআই

চলতি মাসের শুরুতে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে সেখানে যাচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) একটি দল। এ সপ্তাহেই লেবানন পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাদের।

রাজনৈতিক ঘটনা বিষয়ক মার্কিন আন্ডার-সেক্রেটারি ডেভিড হেল বৈরুতে বিস্ফোরণের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লেবানিজ বন্দরটিতে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল তা জানতে তদন্ত করবে এফবিআই।

হেল বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। আমি জানি, এখন এটাই সবার দাবি। লেবানিজ কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে অংশ নিচ্ছেন ফরাসী তদন্তকারীরাও।

গত ৪ আগস্ট বৈরুত বন্দরের গুদামে থাকা ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে কীভাবে আগুন লেগেছিল তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিপজ্জনক এ রাসায়নিকই সেদিনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নথিপত্র থেকে জানা গেছে, বন্দরে প্রায় সাত বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত থাকার কথা লেবাননের শীর্ষ নেতা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানতেন। তারপরও সেগুলো সরিয়ে নেয়া বা যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি।

লেবানিজদের একটি বড় অংশই বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের হাতে দিতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দেশটির দুর্নীতিপ্রবণ প্রশাসন এর তদন্ত করলে নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করবে।

তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বাধীন তদন্তের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, এটি নিয়ে রাজনীতি করা হবে এবং এতে শুধু সময়ই নষ্ট হবে।

গত ৪ আগস্ট বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭৮ জন, আহত হয়েছেন ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ। বিস্ফোরণে শহরটির প্রায় অর্ধেকই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এতে অন্তত তিন লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বৈরুতের গভর্নর।

ব্যাপক দুর্নীতি বন্ধ এবং রাজনীতিতে সংস্কার চেয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই লেবাননে বিক্ষোভ চলছিল। বৈরুতের ভয়াবহ বিস্ফোরণ সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। সরকারের গাফিলতির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে দাবি করে সপ্তাহে রাজপথে নেমে আসেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ। অব্যাহত চাপের মুখে পরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় লেবানিজ সরকার।