বৈরুতের নয় হাইফা’র দায়িত্ব আমাদের হাতে: ইসরাইলের প্রতি হিজবুল্লাহ’র হুশিয়ারি

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ইহুদিবাদী ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বৈরুত বন্দরের দায়িত্ব আমাদের হাতে নেই তবে হাইফা বন্দরের দায়িত্ব আমাদের হাতে। কারণ এই বন্দর লেবাননের কৌশলগত প্রতিরক্ষার অংশ।

বৈরুত বন্দরের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি গত (শুক্রবার) রাতে এ মন্তব্য করেছেন। হিজবুল্লাহর প্রধান বলেছেন, “বৈরুত বন্দর আমাদের পরিচালনাধীন নয় ও এখানে আমাদের কর্তৃত্ব ও নজরদারি না থাকায় আমরা জানিও না যে এখানে কি কি আছে! আমরা বৈরুত বন্দরের চেয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনের বা কথিত ইসরাইলের হাইফা বন্দরকে বেশি চিনি।”

কয়েক সপ্তাহ আগে দামেস্কে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর এক মুজাহিদ শহীদ হওয়ায় তেলআবিব পাল্টা হামলার তীব্র আশঙ্কা করছিল।

বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রতিশোধমূলক ওই হামলার আশঙ্কা কমে গেছে বলে ইসরাইল ধারণা করায় সেই ধারণা দূর করতে এই হুমকিমূলক বক্তব্য দিলেন সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ।

ভাষণের অন্য অংশে তিনি বৈরুত বন্দরের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিস্ফোরণের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং যে কোনো বিদেশী সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং দলমতের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ব্যাপারে যে তদন্ত হবে তাতে কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক পরিচয় গুরুত্ব পাওয়া উচিত নয়।

লেবাননের বাইরের কাউকে দিয়ে এ বিষয়ে তদন্তের বিরোধিতা করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান। তিনি লেবাননের সেনাবাহিনীকে দিয়ে এই তদন্ত চালানোর আহ্বান জানান। তার এ আহ্বানের ফলে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে হিজবুল্লাহর দূরত্ব থাকার ধারণাটিও অসত্য বলে প্রমাণ হল।

গত (শুক্রবার) রাতে দেয়া ওই ভাষণে হিজবুল্লাহ’র প্রধান লেবাননের এই সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবারের ওই বিস্ফোরণকে লেবাননের জন্য মানবিক ও জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

হিজবুল্লাহ বিস্ফোরণের ফলে ঘরবাড়ি-হারা শরণার্থীদের বাসভবন নির্মাণের প্রকল্পে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ঘোষণা করেন।

এই বিস্ফোরণ লেবাননের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। লেবাননে এ অবস্থায় বিদেশী প্রতিনিধিদল আসা শুরু হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনও রয়েছেন তাদের মধ্যে। হিজবুল্লাহর প্রধান বলেছেন, এইসব সফর ও বিদেশী সহায়তা যদি লেবাননের নানা গোষ্ঠী ও দলের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার আহ্বানের আলোকে হয়ে থাকে তবে তাকে স্বাগত জানায় হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ প্রধানের এই ঘোষণা কোনো কোনো রাজনৈতিক ধারার এই ধারণা বাতিল করে দিয়েছে যে হিজবুল্লাহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লেবাননের সংলাপ ও বৈদেশিক সম্পর্ক জোরদারের পথে বাধা হয়ে আছে।

বিস্ফোরণের প্রথমদিকে কিছু গণমাধ্যম খবর দিয়েছিল, বিস্ফোরণে ধ্বংস হওয়া  গুদামে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ছিল। এ খবরকে হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জুলুম, অপরাধ ও অপবাদ হিসেবে হিসেবে  নাকচ করে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননের জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য কিছু গণমাধ্যম এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত খবর প্রচার করেছে।

এসমস্ত গণমাধ্যমের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং তারা লেবাননের ভেতরে গৃহযুদ্ধ শুরু করতে চায় বলে মন্তব্য করেন হিজবুল্লাহ মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা বৈরুত বন্দরে অতীতে বা বর্তমানে আমাদের যে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি জোরালো ও দ্ব্যর্থহীনভাবে নাকচ করছি।

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেরবেল ওহেবি।

গত মঙ্গলবার বৈরুত বন্দরে সংরক্ষিত ২৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের একটি গুদামে বিস্ফোরণ ঘটে যাতে ১৫৪ জন নিহত এবং ৫,০০০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সাধারণত সার ও বোমা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।