বেনাপোল বন্দরে উত্তেজনা, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

বেনাপোল স্থলবন্দরের শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ দখলের গুঞ্জনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এতে সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বুধবার(১২ আগস্ট) বিকাল থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

জানা গেছে, দলীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দীন ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। সম্প্রতি দ্বন্দ্ব উত্তেজনায় রূপ নেয়। যখন যার দলীয় অবস্থান শক্ত হয়, তাদের সমর্থকরা একজন অন্যজনের কাছ থেকে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ দখলে নেয়।

এর আগে বেনাপোল বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন মেয়র সমর্থক নগর আলী ও সেক্রেটারী পৌর কমিশনার রাশেদ আলী। বর্তমানে বন্দর নিয়ন্ত্রণ করছেন এমপি সমর্থক বেনাপোল বন্দরের ৯২৫ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাজু আহম্মেদ এবং সেক্রেটারী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য ওহিদুল ইসলাম ওহিদ।

সম্প্রতি বন্দরের এক কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বন্দরের ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা নকি মোল্লাকে বন্দরের নেতৃত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তজনা চলছিল। দ্বন্দ্বের কারণে আবারও বিভক্ত হয়ে দু’টি গ্রুপ তৈরি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন কারণে বন্দরের নেতৃত্ব থেকে বিদায় নেওয়া সাবেক শ্রমিক নেতাদের কয়েকজন একত্রিত হয়ে তাদের অবস্থান ফিরে পেতে বন্দরের শ্রমিক নেতৃত্ব দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন অভিযোগে রত্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

৯২৫ শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারী ওহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বন্দরে শ্রমিকরা নিরাপদে কাজ করছে। কিন্তু একটি পক্ষ তা ভালোভাবে না নিয়ে ষড়যন্ত্র করে বন্দরের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে। তাই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা চাওয়া হলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বেনাপোল বন্দরের ৮২৫ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এমপি সমর্থক কলিম উদ্দীন বলেন, যারা বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাৎ করে বিতাড়িত হয়েছেন, তারাই নেতৃত্ব দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

মেয়র সমর্থক বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন সাবেক নেতা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে যারা দায়িত্বে রয়েছে- তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদেরকে বন্দরের কাজ থেকে বাদ দিয়েছে।

শত্রুতামূলক তাদের নামে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি, এর সঙ্গে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। জনপ্রিয়তা থাকলে সাধারণ শ্রমিকরা তাদেরকে আবার নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনবেন বলে মন্তব্য করেন তারা।

বন্দর নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের এসআই ইলিয়াচ হোসেন জানান, বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষরোধে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছেন।