বিশেষ বার্তা নিয়ে ঢাকায় আসছেন শ্রিংলা

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সহযোগিতার ব্যাপারে বিশেষ বার্তা নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

একদিনের ঝটিকা সফরে বিশেষ বিমানে তিনি ঢাকায় পৌঁছবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মূল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে।

এ সময় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। মহামারীর মধ্যে শ্রিংলার আকস্মিক এ সফরকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র সফরের বিষয় নিশ্চিত করলেও এ ব্যাপারে আগাম কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি।সোমবার সন্ধ্যায় উভয় দেশের রাজধানীর কূটনৈতিক সূত্রগুলোর কাছে সফরটিকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

একজন ওয়াকিবহাল কূটনীতিক বলেন, ‘কোভিড-১৯ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতার বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেবেন শ্রিংলা’।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু না জানিয়ে তিনি শুধু এটুকু বলেন, মহামারী পরিস্থিতির মধ্যেও শ্রিংলার সফরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কূটনৈতিক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে। তবে সহযোগিতার সার্বিক বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব মূল্যায়ন করবেন।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সোমবার রাতে বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’ তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা জানেন কীভাবে?’

শ্রিংলার সঙ্গে তার কোনো সাক্ষাতের কর্মসূচি নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সকালে সিলেট যাচ্ছি।’করোনাভাইরাসের মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশে চীনের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার আলোচনার মধ্যে শ্রিংলার এ সফর হচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় যৌথভাবে ভারতও করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে টিকা দিয়ে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনের চিকিৎসক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে গেছে। চীন বাংলাদেশে টিকার পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিলে দিল্লির ভ্যাকসিন ডিপ্লোম্যাসি সক্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ অবশ্য চীনের টিকার পরীক্ষার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে।

পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন। এ কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে তার আগ্রহ প্রবল।

বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের শুরুর দিকে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশে সমালোচনা হয়েছিল। ওই সময় শ্রিংলা দিল্লি গিয়ে নীতিনির্ধারকদের মতের কিছুটা পরিবর্তনে সমর্থ হন।

সে কারণে ভারত এখন রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে তাদের রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানোকে সমর্থন করছে। এসব কারণে শ্রিংলার সঙ্গে ঢাকার নীতিনির্ধারকদের একটা সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে।একে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে সক্রিয় হয়েছে দিল্লি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শ্রিংলার সফরের ফলাফলের বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দু’দেশের তরফে স্পষ্ট করে বিস্তারিত বলা হতে পারে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সহযোগিতার পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ সফরে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।