বিলে ঝাঁপ দিয়েও রক্ষা হল না খুনির

হত্যাকাণ্ডের ১ ঘণ্টার মধ্যেই খুনিকে পানির মধ্যে জাপটে ধরেছেন বাউফল থানার পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, ইচ্ছা থাকলেই সব ধরনের অপরাধ পুলিশ নিমিষেই দমন করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাওন খন্দকার ও রাজিব রাজা দুই বন্ধু। ঈদুল আজহার ছুটিতে তারা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। শাওন ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্র আর রাজিব পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে বাউফল উপজেলার বিলবিলাস বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাওন খন্দকারকে (২৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে খুন করে রাজিব রাজা (২৮)। মুহূর্তেই খবর পেয়ে বাউফল সার্কেলের এএসপি ফারুক হোসেন এবং ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিলের মধ্য দিয়ে খুনি রাজিব রাজা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বিলের পানির মধ্যে লাফিয়ে পড়ে খুনি রাজিবকে জাপটে ধরে। খুনের ১ ঘণ্টার মধ্যেই রাজিব রাজা গ্রেফতার হওয়ায় এলাকাবাসী মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

ঘটনার আগের রাতে শাওনের চোখে টর্চ লাইটের আলো মারে রাজিব। এতে শাওনের সঙ্গে রাজিবের কথাকাটাকাটি হয়। পরের দিন বিলবিলাস বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাওয়ার সময় রাজিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাওনকে আঘাত করে। শাওনকে দ্রুত উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বাউফল থানায় রাজিব রাজাকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শাওনের বাবা জাকির হোসেন। নিহতের ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার বিকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে বিলে বুক সমান পানি হয়েছে। বিলের পানিতে সাঁতার কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে রাজিব। আমরা পানির মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে আটক করেছি ঘাতক রাজিবকে। মঙ্গলবার রাজিবকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।