বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড: সরকারের বক্তব্য এবং বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম একসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সংস্কারকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মীর হাতে ক্রসফায়ার হোক, বিএনপির কর্মীর হাতে ক্রসফায়ার হোক, পুলিশের হাতে হোক, র‍্যাবের হাতে হোক বা আর্মির হাতে হোক—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাদের অ্যাকাউন্টেবল করতে হবে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘আমি নিজেও মনে করি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমি চাই, কোনো ক্রসফায়ার, কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বৈধতা না পাক। তবে আমাদের যে লিগ্যাসিটা (ধারাবাহিকতা) আছে, সেটা অতিক্রম করতে সময় লাগে। এ কথাও তো সত্য, অপারেশন ক্লিনহার্টে যারা জড়িত ছিল, তাদের রক্ষার জন্য একটি দায়মুক্তি অধ্যাদেশ হয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন।’

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশ-এর সভাপতি এ্যাডেআকেট মনজিল মোরশেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হলে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন বাহিনী প্রধানদের পক্ষ থেকে পরিস্কার নির্দেশনা থাকতে হবে কোন রকম বিচারবহির্ভূত হত্যা বা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর জন্য সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরো জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতের মৃত্যুর বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে তিনি হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন, কিন্তু এখনো কোন সুরাহা পান নি।

দেশে কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে বলে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যা ঘটছে না।

সম্প্রতি কক্সবাজারের টেকনাফে তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের নিহত হওয়ার প্রক্ষাপটে বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

গতকাল শনিবার এ প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অনুষ্ঠানেও। অনুষ্ঠানে সমিতির সাবেক সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন উল্লেখ করেন, দেশে এখন দুই ধরনের বিচার চলছে। একটা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের বিচার। আরেকটি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রসফায়ার।

তিনি বলেন, ‘এক দেশে দুটি বিচারব্যবস্থা চলতে পারে না। মেজর সিনহার যে হত্যাকাণ্ড, এরকম ঘটনার এটি বহি:প্রকাশ। এরকম আগেও হয়েছে। অবশ্যই ক্রসফায়ারের সব ঘটনার তদন্ত করা উচিত।

ওদিকে, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আইনজ্ঞ গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মেজর (অব.) সিনহার হত্যাকাণ্ড দেখিয়ে দিল দলীয়করণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ভোট ডাকাতিসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের কারণে পুলিশের কিছু সদস্য দানবে পরিণত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে অনলাইন সভায় তিনি এসব কথা বলেন।