বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই সমৃদ্ধশালী হতো : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশকে যেভাবে পুনর্গঠিত করেছিলেন, তিনি বেঁচে থাকলে অনেক আগেই বাংলাদেশ সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হতো।

শনিবার জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জাতির পিতার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ২১ বছরে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত উচ্চারিত হতে দেওয়া হয়নি। তার কণ্ঠস্বর বেতার, এমনকি মাইকেও বাজাতে দেওয়া হয়নি। ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে ফেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, এমন পৈচাশিক হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তার মৃত্যুর সাড়ে চার দশক পর আজও যেকোনো দেশের জনগণের অধিকার ও মুক্তির প্রশ্নে বিশ্ব তার অসামান্য অবদান, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ স্মরণ করে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার হয়েছে, বাকি খুনিদেরও দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে হবে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তাদের মুখোশও জনগণের মাঝে উন্মোচন করতে হবে।

আলোচনা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণকারী তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, বিকেল ৩টায় নওগাঁ জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় অনলাইনে যোগ দেন খাদ্যমন্ত্রী। উক্ত সভায় নওগাঁ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, নওগাঁ জেলার জেলা প্রশাসক, নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং নওগাঁ জেলার বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

দুপুরে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার তার নির্বাচনী এলাকা পোরশা, সাপাহার ও নেয়ামতপুর উপজেলায় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

এসব অনুষ্ঠানে তিনটি উপজেলার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।