বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে গোটা বাংলাদেশকেই সেদিন হত্যা করা হয়েছিল: আব্দুর রহমান

ঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতেই হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এ দাবি করেন আলোচকরা। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।

আব্দুর রহমান বলেন, এই আগস্ট মাসটি আমাদের কাছে এক শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক মাস। আমাদের সব কিছু হারানোর মাস। বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি মানচিত্র, একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন।

আন্দোলন সংগ্রামের বাঁকে বাঁকে যিনি পাকিস্তানের কারাগারে জীবন বিসর্জন দেয়ার মতো অবস্থায়ও দেশের কথা ভুলেননি। আমরা কখনোই ভাবিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হারাতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে গোটা বাংলাদেশকেই সেদিন হত্যা করা হয়েছিল।

১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড যে কয়েকজন বিপথগামী অবসরপ্রাপ্ত সেনা ছিল তা ঠিক নয়। সেদিন একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা এই হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল। আমরা সকলেই জানি, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সবাইকে হত্যার পরই কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এই হত্যাকান্ডের পরই বাংলাদেশ বেতারকে রেডিও বাংলাদেশ করেছিল।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনাকে সেদিন হত্যা করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রকারন্তরে পাকিস্তানি আদর্শ বাস্তবায়ন করেছিল ষড়যন্ত্রকারী। তাদের মূল টার্গেট ছিল, একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়ে পাকিস্তানি ধারায় বাংলাদেশকে পরিচালিত করা।

দীর্ঘ ২১ বছর সেই ধারাতেই বাংলাদেশ চলেছিল। ১৯৮১ সালের ১৭ মে আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। তিনি দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করে, ২১ বার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর মূল্যবোধের বাংলাদেশকে আজ ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তিনি বিচার করেছেন।

এখনো যেসব খুনিরা বিদেশে আছে তাদের ফিরিয়ে আনতে পৃথিবীতে জনমত সৃষ্টি করছেন। একই ধারায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।

জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্রে পরিকল্পনাকারী। তারও মরণোত্তর বিচার হওয়া প্রয়োজন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা বিরোধী শাহ আজিজ, মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আজমদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিল। এই পাকিস্তান ধারার শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক মাঠে মোকাবিলা করে তাদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখতে হবে, তাহলেই এই ষড়যন্ত্র থেকে জাতি মুক্তি পাবে।