বগুড়ায় ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে দুই শিক্ষক বরখাস্ত

বিয়াম ফাউন্ডেশন পরিচালিত বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের দুই প্রভাষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে ওই দুই প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আর ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন ওই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আব্দুল মোত্তালিব।

জানা যায়, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার এক ছাত্রী সম্প্রতি বগুড়ার জেলা প্রশাসক বরাবার একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে গত ২০ জানুয়ারি প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ কলেজের সাবেক এক ছাত্রীকে হাত ধরে টানাহেঁচড়া করেন। তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের সম্মানের অজুহাতে বিষয়টি ধামাচাপা দেন।

আর সর্বশেষ গত ২৬ আগস্ট একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবদুল মোত্তালিবের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ করেন সাবেক আরো এক ছাত্রী। শিক্ষক মোত্তালিব পোস্ট তুলে নিতে ওই ছাত্রীকে ফোনে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেছে সাবেক ওই ছাত্রী।

এসব জানাজানি হওয়ার পর শুক্রবার রাতে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলা হয়, শিক্ষক কর্তৃক প্রাক্তন ছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির সংবাদ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় অত্র প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত দুইজন প্রভাষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম আলী বেগ। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান ও কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তিনিও এই কমিটিতে রয়েছেন।

অভিযুক্ত প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

বিয়াম ফাউন্ডেশন বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক (উপ-সচিব) আব্দুর রফিক বলেন, এ ধরণের ঘটনার সাথে যে কেউ জড়িত হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে, কোন ছাড় পাবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিয়াম ফাউন্ডেশনের কড়া বার্তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম আলী বেগ জানান, যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।