ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ছাড়া আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক নয় : সৌদি প্রিন্স

জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির কোনো সম্পর্ক তৈরি হবে না বলে জানিয়েছে সৌদির রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্য প্রিন্স তুর্কি বিন ফয়সাল আল সাউদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদির সংবাদ মাধ্যম ‘’ প্রকাশিত এক কলামে তিনি এ কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার আমিরাতের মতো ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ার আশা ব্যক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের জবাবে একথা বলেন সৌদির এ প্রিন্স।

তাছাড়া গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনওয়ার গারগাশ আরব রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ার আহ্বান করেন।

প্রিন্স তুর্কি ফয়সাল আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক স্থাপন দেখে আমরা বিস্মিত।’

এছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ার বদলে আরব রাষ্ট্রগুলোকে চড়ার মূল্য দাবী করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি চড়ার মূল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সৌদি আরবের কাছে আরব-ইসরায়েল সম্পর্কের চড়া মূল্য হলো জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা করা।’

প্রকাশিত কলামে সৌদি রাজপরিবারের সিনিয়র এ সদস্য আমিরাত-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রতিবাদ করা তুরস্ক, ইরান ও কাতারের প্রতিও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

তুর্কি ফয়সাল আরো লিখেন, ‘এ বিতর্কে সবচেয়ে অনালোচিত বিষয় হলো, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রধান আরব আমিরাত থেকে কিছু পাওয়ার আশায় ধরনা দিয়েছে, যেন তা আগামী নির্বাচনে কাজ দেয়। আর চুক্তিতে দখল স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে, যা ট্রাম্প ঘোষিত ‘শতাব্দির চুক্তি’রও একটি অংশ। অতঃপর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সাক্ষরিত হয়।’

উল্লেখ্য, প্রিন্স তুর্কি বিন ফয়সাল সৌদি আরবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সৌদির দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে নিহত হওয়া সৌদি বাদশাহ ফয়সালের সন্তান তিনি। তাছাড়া তিনি সৌদির সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাউদ আল ফয়সালের ভাই।

সূত্র : মিডলইস্ট আই, আশ শারাক আল আওসাত