ফিলিস্তিনি সংগ্রামী নেতা আহমাদ জিবরিলের ইন্তেকাল; শোক জানাল ইরান

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন পপ্যুলার ফ্রন্ট ফর দ্যা লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আহমাদ জিবরিল ইন্তেকাল করেছেন। ইহুদিবাদী ইসরাইল বিরোধী সংগ্রামের এই বীরসেনানীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

আরবি নিউজ চ্যানেল আল-মায়াদিন জানিয়েছে, ৮৩ বছর বয়সি জিবরিল বুধবার রাতে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

আহমাদ জিবরিল ১৯৩৮ সালে ফিলিস্তিনের ইয়াফা শহরের নিকটবর্তী ইয়াজুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন ফিলিস্তিনি এবং মা সিরিয়ার নাগরিক। জন্মের মাত্র ১০ বছর পর ১৯৪৮ সালে ইহুদিবাদীরা ফিলিস্তিন দখল করে নিলে অন্যদের সঙ্গে জিবরিলের পরিবারকেও ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত করা হয়। জিবরিলের পিতা তার পরিবার নিয়ে সিরিয়ায় চলে যান। আহমাদ জিবরিল ১৯৫৬ সালে মিশরের সামরিক একাডেমিতে ভর্তি হন এবং ১৯৫৯ সালে সেখান থেকে সাফল্যের সঙ্গে কমিশন লাভ করে অফিসার পদে সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।

সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ইহুদিবাদীদের কবল থেকে জন্মভূমি মুক্ত করার লক্ষ্যে গোপনে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে কাজ শুরু করেন তিনি। গড়ে তোলেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন পপ্যুলার ফ্রন্ট ফর দ্যা লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন।

১৯৬৩ সালে সিরিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আমিন আল-হাফেজের সঙ্গে মতপার্থক্যের জের ধরে তিনি সেনাবাহিনীর চাকুরি ছেড়ে দিয়ে সার্বক্ষণিক প্রতিরোধ সংগ্রামে যোগ দেন। তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন এবং দখলদার ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। ২০১১ সালে সিরিয়ায় বিদেশি মদদে সহিংসতা শুরু হলে আহমাদ জিবরিল উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেন।

ফিলিস্তিনের এই স্বাধীনতা সংগ্রামী ইসলামি ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (রহ.) সম্পর্কে এক বক্তেব্য বলেন, “সাইয়্যেদ রুহুল্লাহ খোমেনী মুসলিম বিশ্বকে জাগ্রত করে মুসলমানদেরকে নবজীবন দান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ ফিলিস্তিনি সংগ্রামী নেতা আহমাদ জিবরিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক শোকবার্তায় বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ এমন একজন সংগ্রামী মুজাহিদকে হারিয়েছে যিনি কুদস শরীফকে মুক্ত করার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

সূত্রঃ পার্সটুডে