প্রদীপের জলসা থেকে গভীর রাতে আসত কান্নার শব্দ!

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডে সেনাবা’হিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহা’ম্মদ রাশেদ খান হ’ত্যা মা’মলার অন্যতম আ’সামি টেকনাফ থা’নার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলী ঘ’টনার বিষয়ে একে অন্যকে ম’দ্যপ বলে পরস্পরকে দো’ষারোপ করছেন।

আ’ইনশৃঙ্খলা বাহি’নীর প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। লিয়াকত দা’বি করেছেন, বাহাড়ছড়ার দিক থেকে সিনহার যে গাড়িটি আসছিল ওই গাড়িটি আ’টকানোর জন্য ওসি প্রদীপই তাকে নি’র্দেশ দিয়েছিলেন। শুধু গাড়ি আ’টকানোর নি’দের্শ দেননি সঙ্গে এও বলেছিলেন যে, ম’সজিদের ম’ইকে ঘোষণা করা হয়েছে, পাহাড়ে ডা’কাত দলের সদস্যরা মিটিং করছে।

তারা বাহারছড়ার দিকে আসছে। যে গাড়িটি আসছে ওই গাড়িতে ডা’কাত দলের সদস্যরা আছে। স’তর্কভাবে গাড়িটি আ’টকাতে। যাতে তারা ক্রস করতে না পারে। এজন্য সড়কে কোনো রকমের ফাঁক না রেখে আড়াআড়িভাবে অবরো’ধ বসিয়েছিলেন লিয়াকত।

লিয়াকত এও দা’বি করেছেন, ওসি প্রদীপ যখন তার সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন তিনি ম’দ্যপ অবস্থায় ছিলেন। গাড়িটি আসার পর পরই লিয়াকত সিনহাকে গু’লি করে। গু’লির পরেও সিনহা অনেকক্ষণ বেঁ’চে ছিলেন। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও কেন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো না প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদের এমন প্রশ্নে তারা কোনো সন্তো’ষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

ঘ’টনার পরের দিন সকালে প্রদীপ মোবাইল ফোনে যে একজন আ’ইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন তা জে’লার একজন ঊর্ধ্বতন পু’লিশ কর্মক’র্তার পরামর্শক্রমে করেছিলেন বলে প্রদীপ দা’বি করেছেন। র‌্যাব জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তারা সরজমিনে ঘ’টনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ওসি প্রদীপের ‘জলসা ঘরের’ সন্ধান নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই ‘জলসা ঘরে’ প্রতি রাতে মদ ও নারীর আসর বসত। মা’দকের আসর সহ অ’নৈতিক নানা কাজের কেন্দ্র ছিল ওই বাড়িটি। শুধু কি এসব, এ বাড়িতে বসেই ওসি প্রদীপ মা’মলা নিতেন।

থা’না থেকে পাঁচ মিনিটের রাস্তা। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের নাজিরপাড়া গ্রাম। এ গ্রামের নূর মোহা’ম্মদের বাড়িটি ছিল ওসি প্রদীপের ‘জলসা ঘর’। জো’র করে চেকে স্বাক্ষর নেয়া, আ’সামি ধরা, ছাড়া এসব চলতো এ বাড়িতে। এখানে থাকতেন ওসি প্রদীপের ঘনিষ্ঠ পু’লিশ সদস্যরাও। ওই বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে আরেক থা’না হিসেবেই পরিচিত।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সময় রাতের বেলায় কা’ন্নার শব্দ পেতেন বাড়ির আশেপাশের লোকজন। তেমন একজন এই এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশেষ করে মধ্যরাতে অনেকের কান্নার শব্দ আমরা এখানে শুনতাম।

পু’লিশের গালাগালি শুনতাম। কিন্তু তখন আমরা ভ’য়ে কারো সঙ্গে কথা বলতাম না। এই বাড়ির আশেপাশেও কেউ যেতো না। সন্ধ্যা নামলেই ওই বাড়িতে তরুণীদের আনাগোনা বুঝা যেত।

ওসি প্রদীপ নিয়মিত এখানে এসে অফিস করতেন। আমরা তা দেখেছি। যখন তিনি আসতেন এলাকার মানুষ তখন ভ’য়ে থরথর করে কাঁ’পতো। তার সামনে ভু’লেও কেউ পড়তেন না।

বাড়িটির নিচ তলায় হাতের ডান পাশের কক্ষটিতে গিয়ে দেখা যায় মা’মলার অ’সংখ্য গুরুত্বপূর্র্ণ কাগজপত্র। দু’তলায় গিয়ে দেখা মিলে ম’দের বোতল, ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জাম, পু’লিশ সদস্যদের জুুতা, ব্যাংকের খালি চেক, আর্মড পু’লিশের পোশাকসহ পু’লিশ সদস্যদের থাকার নানা আলামত।

অ’ভিযোগ রয়েছে, বাড়িটির মালিক মুদি দোকানি নূর মোহা’ম্মদকে গত বছর দোকান থেকে তুলে নিয়ে ক্রসফা’য়ার দেয় টেকনাফ থা’না পু’লিশ। নূর মোহা’ম্মদের স্ত্রী লায়লা বেগম অ’ভিযোগ করে বলেন, স্বামী নূর মোহা’ম্মদকে গত বছর মার্চ মাসে বাড়ির পাশে দোকান থেকে ধ’রে নিয়ে যায় টেকনাফ থা’না পু’লিশ।

পরে তাদের কাছ থেকে চল্লিশ লাখ টাকা দা’বি করেন পু’লিশ সদস্যরা। পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করে দিলেও শেষ র’ক্ষা হয়নি আমার স্বামীর। তাকে তারা ক্রসফা’য়ার দিয়ে দেয়। ঘ’টনার দুই মাস পরে এখান থেকে আমাদের বের করে দেয়া হয়। বাড়ি থেকে আমাদের কিছুই নিতে দেয়া হয়নি।

পরে ওসি প্রদীপ কুমারকে দলিল দেখালে দলিলটিও তারা নিয়ে নেয়। অ’ভিযোগ রয়েছে, নূর মোহা’ম্মদের স্ত্রী লায়লা বেগমকে তার দুই সন্তান সহ বাড়ি থেকে বের করে দেন ওসি। এরপর থেকে বাড়িটি দখলে নেন এই পু’লিশ কর্মক’র্তা। নিজের বাড়ি থাকতেও লায়লা বেগম মানুষের বাড়িতে বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।