প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ও চীন : রাফালে কতটুকু লাভ হবে ভারতের?

আম্বালা বিমান ঘাঁটিতে ফ্রান্সের তৈরী রাফাল বিমানগুলো পৌঁছানোর পরে পুরো ভারতে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। মনে হচ্ছে, বিরাট কোনো ঘটনা ঘটে গেছে।

অবশ্য এর একটি কারণ হলো, ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোন পশ্চিমা জঙ্গি বিমান হাতে পেলো ভারত। বলা হচ্ছে, এই বিমান খেলা বদলে দেবে। সত্যি কী তা করবে? বিশেষজ্ঞরা কিন্তু অন্য কথা বলছেন। চীনা ও পাকিস্তানি জঙ্গি বিমানের সাথে তুলনা করে এই বিমানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

ফরাসি কোম্পানি দাসল্ট অ্যাভিয়েশানের তৈরি রাফাল বিমানগুলো অনেক চড়াই উৎরাই এবং অনেক বিতর্ক পাড়ি দিয়ে অবশেষে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে পৌঁছালো। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আগ দিয়ে বিমানগুলো হাতে পেলো ভারত।

পূর্ব লাদাখ এলাকায় ভারত-চীন সীমান্ত সঙ্ঘাতের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নয়াদিল্লী জরুরি ভিত্তিতে সমরাস্ত্র কিনছে। চীনের দিক থেকে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব দেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী বেশ কিছু ক্রয় চুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে রাইফেল, ড্রোন, এবং বিশেষায়িত গোলাবারুদ।

শুধু অতিরিক্ত গোলাবারুদের জন্যই এই জরুরি ক্রয় প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে না, বরং ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য নতুন সিস্টেম ও অস্ত্রাদিও কেনা হচ্ছে।

প্রথম পাঁচটি দাসল্ট রাফাল বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার পর বিমান বাহিনী পার্বত্য এলাকায় বিমান উড্ডয়নের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশানের সাথে জড়িত আঙ্গাদ সিং ও হার্শ ভি পান্ত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছেন যে, ৩৬টি রাফাল বিমান ভারতের বিমান বাহিনীর অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন করবে না, যাদের বিমান শক্তি অনেক পিছিয়ে আছে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে যে, ভারতের বিমান বাহিনীর বহরে বিমানের সংখ্যার অনেক ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে বিমানের সংখ্যা ৩০ স্কোয়াড্রনে গিয়ে পৌঁছার আশা করা হচ্ছে, যদিও বাহিনীর জন্য অনুমোদিত রয়েছে ৪২ স্কোয়াড্রন।

লেখকদ্বয় বলেছেন, ভারতের রাফাল বিমান যতই অনন্য হোক বা এর অস্ত্রাদি যতই কার্যকর হোক, ৩৬টি বিমান দিয়ে এ অঞ্চলে সামরিক শক্তির ভারসাম্যে কোন পরিবর্তন আসবে না।

তারা আরও জানান যে, চীনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড তাদের সীমান্তে প্রায় ২০০ জঙ্গি বিমান মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রায় ৩৫০টি জঙ্গি বিমান রয়েছে, যেগুলো তারা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে।

সবশেষে তারা বলেছেন যে, ভারত যদি চীনের সাথে ‘প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শক্তির’ দিক থেকে সমপর্যায়ে যেতে না পারে, তাহলে লাদাখ হয়তো প্রথম ভূখণ্ড হবে, যেটার নিয়ন্ত্রণ হারালো ভারত, এবং এরপর আরো এ ধরণের ভূখন্ড হাতছাড়া হবে ভারতের।

সূত্র : ইউরেশিয়ান টাইমস