প্রতিপক্ষের হামলায় কবজি হারালেন ছাত্রলীগ নেতা

প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় শুভ শীল (২০) নামে ছাত্রলীগ নেতার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের ওহাবিয়া দাখিল মাদরাসা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত শুভ শীল মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের শ্যামল শীলের ছেলে।

ছাত্রলীগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম। আরেক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান। শুভ শীল আরিফুর রহমানের অনুসারী ছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে শুভ শীল মঠবাড়িয়া শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় ওয়াবিয়া দাখিল মাদরাসা এলাকায় (স্লুইসগেট এলাকা) ওঁৎ পেতে থাকা ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল শুভ শীলের ওপর সে সময় অতর্কিত হামলা করে।

এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শুভর ডান হাতের কবজি কেটে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে স্থানীয়রা হাসপাতাল সেতুর ওপর থেকে শুভর বিচ্ছিন্ন কবজি উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ফেরদৌস ইসলাম বলেন, শুভ শীলের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাতে ধারালো অস্ত্রে কোপের জখম ছিল। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টিতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান জানান, শুভ শীলের ওপর হামলায় পৌর ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সাদী, ছাত্রলীগ কর্মী মো. তৌফিক ও তানভীর মল্লিক নেতৃত্ব দেন। তারা সবাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলামের অনুসারী।

তবে ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, শুভ শীলের সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এটাকে একটি মহল রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে প্রমাণ করতে চাচ্ছে। এ ঘটনার পর ওই পক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদের বাসভবনে হামলা করে ও গাড়িতে আঘাত করে।

এ দিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘স্থানীয় ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার জন্য আমার বাড়িতে হামলা করে। পুলিশ হামলাকারীদের বাধা দেয়। আমি শুভ শীলের ওপর হামলার নিন্দা জানাই এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।’

 

হামলার সত্যতা স্বীকার করে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ জেড এম মাসুদুজ্জামান বলেন, শুভকে জখম করার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।