পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে তালেবান প্রতিনিধি দল

আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে তালেবানদের একটি প্রতিনিধি দল। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত আফগান তালেবানদের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান মোল্লা আবদুল গণি বড়দার।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘আমরা আফগান তালেবান প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করার জন্যই তারা পাকিস্তানে আসছেন।’ তিনি অবশ্য সফরের তারিখ নিশ্চিত করেননি বা প্রতিনিধি দলে কারা কারা থাকছেন সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

সূত্রমতে, আজ ভোরে প্রতিনিধিদলটির ইসলামাবাদে আসার কথা ছিল। প্রতিনিধি দলটি ইতিমধ্যে চলে এসেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাকিস্তানে গত দশ মাসে এটি মোল্লা বড়দারের দ্বিতীয় সফর। তিনি গত বছরের অক্টোবরে ইসলামাবাদ সফর করেছিলেন, যখন মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে তালেবান হামলা অব্যাহত রয়েছে অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে তাদের সাথে শান্তি আলোচনা বন্ধ করে দেন।

সে সময় পাকিস্তান মোল্লা বড়দার এবং মার্কিন বিশেষ দূত জাল্মে খলিলজাদের নেতৃত্বে তালেবান প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিল। এই বৈঠকটি শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে সহায়তা করেছিল। যার প্রতিক্রিয়ায় অবশেষে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এই চুক্তিতে মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহারের জন্য একটি রোডম্যাপের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার বদলে তালেবানরাও কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আফগান মাটি আর ব্যবহার করতে না দেয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছে।

আফগান প্রতিনিধি দলের এই সফরটি হচ্ছে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু করার প্রস্তুতি। এর পরে আফগান সরকারের সাথে তাদের সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ইতিমধ্যে, তালেবান বন্দীদের মুক্তি নিয়ে আফগান সরকার ও তালেবানদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে তাদের মধ্যে সংলাপ কয়েক মাস বিলম্বিত হয়েছে।

সম্প্রতি, আফগানিস্তানের লোয়া জার্গা (সংসদের নিম্ন কক্ষে উপজাতীয় মহাসমাবেশ) বাকি ৪০০ তালেবান বন্দীদের মুক্তি দিতে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির নেয়া পদক্ষেপের সমর্থন করায়, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যায়। এটি আন্তঃআফগান সংলাপের পথ প্রশস্ত করেছে। প্রথম দফায় দোহায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে এই শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

সূত্র: পাকিস্তান ট্রিবিউন।