পাকিস্তানী চ্যানেলে দেখা গেল ভারতের পতাকা, তদন্তের নির্দেশ

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন নিউজ চ্যানেলের পর্দায় হঠাৎই ভেসে উঠে ভারতের পতাকা। পাশে লেখা ‘হ্যাপি ইন্ডিপেন্ডেন্স’ ডে। রোববার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় বিজ্ঞাপন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় সেই স্থির চিত্র এবং ভিডিও। সম্প্রচার সিস্টেম হ্যাক করে এ কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে ডন জানায়, স্বাভাবিকভাবেই তাদের সম্প্রচার চলছিল। আচমকাই বিজ্ঞাপন চলাকালে ভারতের পতাকা এবং ‘হ্যাপি ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে’ লেখা ভেসে উঠে। কিছুক্ষণ পতাকাসহ লেখাটি পর্দায় স্থায়ী হয়। পরে নিজে নিজে মুছে যায়।’

‘হঠাৎ করে পর্দায় ভারতীয় পতাকা এবং ‘হ্যাপি ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে‘ লেখা সম্প্রচার হওয়ার বিষয়টি ডন তদন্ত করছে। কী ঘটেছিল তা অনুসন্ধান করে দর্শককে অভিহিত করা হবে।’ জানিয়েছে ডন।

গেলো মাসে ইসলামাবাদ সরকারের একটি ওয়েব সাইট হ্যাক হয়। হ্যাক হওয়া সাইটে আজাদ কাশ্মীরের গণসংযোগ বিষয়ক মহাপরিচালকের পক্ষে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে আজাদ কাশ্মীরে মানিবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয় ইমরান খানকে।

হ্যাক করে আরো লেখা হয়, ‘আজাদ কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা চায়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সাধারণ নাগরিককের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। তাদেরকে সন্ত্রাসবাদে বাধ্য করছে। আজাদ জম্মু এবং কাশ্মীরে পাকিস্তানের দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে চলা বৈষম্যনীতি এবং অপশাসনের তীব্র নিন্দা জানাই।’

ওই সময় সরকারি ওয়েবসাইটি ভারতীয় হ্যাকাররা হ্যাক করেছে বলে জানায় ইসলামাবাদ।

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে আলাদা হয় ভারত-পাকিস্তান। ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করে পাকিস্তান। পরদিন ১৫ আগস্ট নিজেদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে ভারত। ১৯৪৭ সালে আলাদা হওয়ার পর থেকে দু’পক্ষের মধ্যে সীমান্ত, জম্মু-কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরামণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী যুদ্ধে জড়িয়েছে অন্তত তিনবার।