পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় রাখার কোন যুক্তি নেই: কুরেশি

পাকিস্তানকে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) ধূসর তালিকায় রাখার কোন যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। শনিবার এই মন্তব্য করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি জানিয়েছেন, এই সংস্থাটি কোনও প্রযুক্তিগত বা রাজনৈতিক ফোরামের মতো আচরণ করছে।

একদিন আগেই এফএটিএফ জানিয়ে দিয়েছে, ২০১৮ সালে সন্ত্রাসদমনে যে ২৭টি শর্তপূরণ করতে বলা হয়েছিল পাকিস্তানকে, তার মধ্যে ২৬টি পূরণ করছে পাকিস্তান। একটি এখনও বাকি রয়েছে। তাই ধূসর তালিকাতেই থাকতে হবে তাদের। স্বাভাবিক ভাবেই এমন সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ইমরা‌ন প্রশাসন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে এখনও ধূসর তালিকায় রেখে দেয়ার কোনও অর্থ নেই। তিনি বলেন, কেবল ধূসর তালিকা থেকে বেরনোর জন্যই নয়, পাকিস্তান গত ২ বছরে অর্থ তছরূপ ও সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদতের বিষয়ে যা পদক্ষেপ করেছে, সবই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। এবং যেখানে ২৭টির মধ্যে ২৬টি শর্তই ইতিমধ্যে পূরণ করেছে ইসলামাবাদ, তারপরও তাদের ধূসর তালিকায় রেখে দেয়ার কোনও যুক্তি নেই।

কুরেশির অভিযোগ, ‘অন্য কোনও শক্তি’র প্রভাবেই পাকিস্তানকে ওই তালিকা থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, বিশ্ব সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, পাকিস্তান ২৬ দফা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে এবং ২৭তম দফা – সিএফটি (সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা) – তেও অগ্রগতি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি এটিকে পরিষ্কার করে দেয়া জরুরী বলে মনে করি যে, আমরা যেই পদক্ষেপই গ্রহণ করি তা আমাদের নিজস্ব স্বার্থে। আমরা অর্থ পাচার বন্ধ করতে চাই। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেই কাজই করব যাতে পাকিস্তানের স্বার্থ রয়েছে।’

এফএটিএফ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাকিস্তানকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ সদস্য দেশগুলোর বিবেচনায় ২৭তম দফা – সিএফটি সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই দেশগুলি দীর্ঘকাল এফএটিএফ ফোরামের মাধ্যমে দাবি করে আসছে যে, আফগান তালেবান, জামায়াত-উদ-দাওয়া (জূডি), হাক্কানি নেটওয়ার্ক, জাইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম), লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি), ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন, আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট এই আটটি গ্রুপকে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। পাকিস্তানকে ২০১৮ সালের জুন থেকে এফএটিএফ ধূসর তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছিল এবং ধূসর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ২৭-দফা কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছিল। তারপর থেকেই ইমরান প্রশাসন মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছে ওই তালিকার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।