পম্পেও’র পশ্চিম এশিয়া সফর: আরবদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্থাপন মূল লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তার উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য নানা অজুহাত সৃষ্টি বিশেষ করে ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটনের অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোকে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল করে রাখা এবং দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে এ দেশগুলোর স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।

এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যান। তিনি এক টুইট বার্তায় ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার শান্তিচুক্তিকে গত ২৫ বছরের ইতিহাসে পশ্চিম এশিয়ায় সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

কোন কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক পম্পেও’র আমিরাত সফরকে ভবিষ্যৎ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্র প্রস্তুতের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ পরিকল্পনার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আমিরাত সফর এবং আবুধাবিতে ইসরাইলি দূতাবাস উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করা যায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও পশ্চিম এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে প্রথমে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সুদানকে রাজি করানোর জন্য খার্তুমের উদ্দেশ্যে রওনা হন ।

পশ্চিম এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে সুদান সফর শেষ করে গত শনিবার তিনি বাহরাইন সফরে যান এবং দেশটির যুবরাজসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলী বিশেষ করে ইসরাইলের সঙ্গে এ অঞ্চলের দেশগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে মতবিনিময় করেন।

রাজধানী মানামা পৌঁছেই তিনি ইরানকে এ অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত আরব দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এরপর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুফলগুলো তুলে ধরেন।

তিনি এমন সময় আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যকার শান্তি চুক্তিকে শান্তির পথে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেন যখন ক্ষুদ্র এ দেশটির কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

অথচ ফিলিস্তিনিরা দশকের পর দশক ধরে ইসরাইলের জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। এ অবস্থায় দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সাথে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের কি সম্পর্ক রয়েছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তাও আবার এমন সময় যখন ইসরাইল প্রতিদিনই ফিলিস্তিনি ভূমি জবর দখলের মাধ্যমে নিজেদের ভূমির পরিধি বাড়াচ্ছে এবং অত্যাচার নির্যাতন ও চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে।

এ অবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কিসের ভিত্তিতে ইসরাইল ও আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিকিকরণের বিষয়টিকে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করছেন তা স্পষ্ট নয়।

খ্যাতনামা আরব রাজনৈতিক বিশ্লেষক আয়েশ মোহাম্মদ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জামাতা কুশনারের মাধ্যমে আরব সরকারগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য হয়। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসরাইলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করা।

যাইহোক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমিরাতের পর অন্যান্য আরব দেশকেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উৎসাহিত করা পম্পেও’র এ অঞ্চল সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।