পবিত্র আশুরা উপলক্ষে খোলা স্থানে তাজিয়া মিছিল ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা

দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে খোলা স্থানে তাজিয়া মিছিল ও সমাবেশ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরুত্ব মেনে ঘরোয়াভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা যাবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি)দপ্তরে আশুরা উদযাপন উপলক্ষে মহানগর এলাকার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভাশেষে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

আশুরা অনুষ্ঠান আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিস্তার রুখতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। অনুষ্ঠান স্থলে মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেবেন না।’ সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে ইমামবাড়াগুলোতে সবাইকে একসাথে না ঢুকিয়ে খণ্ড খণ্ড দলে বিভক্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থানের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি।

শান্তিপূর্ণভাবে আশুরা উদযাপন করার আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কোনো বিরোধ থাকলে শান্তিপূর্ণভাবে তা মীমাংসা করতে হবে। আশুরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। আপনাদের যেকোন প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি। আমরা ধর্মীয়ভাবে উদার একটি সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাস করি।’

তবে ইমামবাড়া কেন্দ্রিক আয়োজক কমিটিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে শিশু ও ষাটোর্ধ্ব এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ইমামবাড়ায় প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

এসময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস, র‌্যাব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি এবং লালবাগ, মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগের শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আশুরা কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। পুলিশের পোশাকে ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন থাকবে। অনুষ্ঠানস্থল ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট দিয়ে সুইপিং করানো হবে। ইমামবাড়াসহ তার আশাপাশে সিসি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ও ম্যানুয়ালি তল্লাশি করে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে সকলকে ইমামবাড়ায় প্রবেশ করত দেওয়া হবে। আয়োজক কমিটি পরিচয়পত্রসহ পর্যাপ্ত সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন।#