নেপালে প্রবল বর্ষণে বন্যা-ভূমিধস, নিহত ১৬

নেপালে গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা এবং ভূমিধসে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত ও আরও ২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। হিমালয় কন্যা খ্যাত নেপালে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রবল বর্ষণে বন্যা এবং ভূমিধসে গত রোববার থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্ধ ডজনের বেশি শহরে প্রবল বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এতে গত কয়েকদিন তিন বিদেশি-সহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ২২ জন। শনিবার (১৯ জুন) বার্তা সংস্থা এএনআই নিউজ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এএনআই এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বছর বর্ষা মৌসুমের সময় নেপালে বন্যা এবং ভূমিধসে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সারাদেশে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের জেরে বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি জারি এবং নিরাপদে থাকার জন্য মানুষকে সতর্ক করছে।

শুক্রবার গভীর রাতে পার্বত্য জেলা দোলাখার তামাকোশি নদীর তীরে বসবাসকারী লোকজনকে হড়কা বানের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে। দেশটিতে অর্ধ ডজনেরও বেশি শহরে প্রবল বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে গত কয়েকদিন তিন বিদেশিসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

সিন্ধুপালচক এবং মানাং জেলায় প্রাণহানি এবং অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত বন্যা এবং ভূমিধসে লামজং, মায়াগদি, মুস্তং, মানং, পালপা, কালিকোট, জুমলা, দাইলেখ, বাজুরা ও বাজহং-সহ সিন্ধুপালচক জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসে নেপাল-চীন সীমান্তের টিংগ্রি কাউন্ট্রির রংজিয়া শহরসংলগ্ন এলাকায় তামাকোশি নদীর প্রবাহমুখ আটকে গেছে।

ফলে যে কোনও সময় এই এলাকায় হড়কা বান দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া অফিস বলছে, “গত ১ জুন থেকে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। এটি আগামী প্রায় তিন মাস ধরে অব্যাহত থাকতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জনকরাজ দহল বলেছেন, “সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি, উদ্ধার এবং ত্রাণ তৎপরতার দিকে মনযোগ দিচ্ছে। গত রবিবার থেকে এক সপ্তাহে আমরা ১৬ জনের মৃত্যু এবং ২২ জনের নিখোঁজের তথ্য পেয়েছি। দেশজুড়ে বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র : এএনআই