নির্বাচনের ১০০ দিন আগে সিরিয়াস ট্রাম্প, নেমেছেন আটঘাট বেঁধে

আজ থেকে ১০০ দিন পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প কি আবার জয়লাভ করতে পারবেন? নাকি হোয়াইট হাউসে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস হাতছাড়া হয়ে যাবে?

কেমন হবে নির্বাচনী পরিবেশ? করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কতটুকু প্রভাব ফেলবে? এমন সব প্রশ্ন সামনে আসছে।

করোনা সংকট ও অর্থনীতির উপর তার মারাত্মক প্রভাবের মাঝে কার্যত সব জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন৷

তবে ভোটারদের মতিগতি বুঝতে এমন সমীক্ষা যে নির্ভরযোগ্য নয়, চার বছর আগের নির্বাচনে তা আবারো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল৷ ডেমোক্র্যাট দলের হিলারি ক্লিন্টন জনমতে এগিয়ে থেকেও নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে হেরে যান৷

শুরুতে গুরুত্ব না দিলেও এবার নির্বাচনে জিততে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন ট্রাম্প। রবিবার ভোটারদের মন জয় করতে প্রচার শুরু করেন তিনি৷ তাঁর মতে, ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ ভোটাররাই তাঁকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবেন৷

জনমত সমীক্ষায় খারাপ ফলাফল সত্ত্বেও দমে যাবার পাত্র নন ট্রাম্প৷ এক টুইট বার্তায় তিনি দাবি করেন যে অনেকের মতে তাঁর প্রচারে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তা আমেরিকার ইতিহাসে অনেক প্রচার অভিযানের সময়ে দেখা যায়নি৷ এমনকি তাঁর মতে, ২০১৬ সালে তাঁর নিজের প্রচারকেও ম্লান করে দিচ্ছে ২০২০ সালের অভিযান৷

এতকাল প্রতিপক্ষ বাইডেনের ভাবমূর্তি খর্ব করতে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ছিলেন না ট্রাম্প, তবে এবার তীব্র ভাষায় সেই ঘাটতি পুষিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন তিনি৷ রবিবার ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেনের প্রচারে কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই৷ নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাররা ৩রা নভেম্বর কথা বলবেন৷ ভুয়া সমীক্ষা ও ভুয়া খবর ব়্যাডিকাল বাম শক্তিকে বাঁচাতে পারবে না৷’

বাইডেনও হাত গুটিয়ে বসে নেই৷ করোনা সংকটের কারণে জনসমক্ষে তেমন উপস্থিত থাকতে না পারলেও তিনি নেপথ্যে যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছেন৷ বাইডেনের দাবি, তিনি ‘আমেরিকার আত্মা’-র জন্য লড়াই করছেন৷ তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের ক্ষমতা একটি কার্যকালেই সীমিত রাখার ডাক দিয়েছেন৷

বাইডেন এক টুইট বার্তায় লেখেন, ‘আর ১০০ দিন পর আমাদের দেশকে নতুন পথে চালিত করার সুযোগ আসছে৷ যে পথে আমরা আমাদের উচ্চতম আদর্শ পূরণ করতে পারি এবং সব মানুষ সাফল্যের ন্যায্য সুযোগ পায়৷’

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চরিত্র করোনা সংকটের কারণে আমূল বদলে গেছে৷ ভিড়ে ঠাসা জনসভার ঝুঁকি এড়াতে বাইডেন শুরু থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ ট্রাম্প করোনা ভাইরাসের পরোয়া না করে বেশ কয়েকটি জনসভা আয়োজন করলেও বর্তমানে পিছিয়ে এসেছেন৷ সংক্রমণ ছড়ানো থেকে শুরু করে যথেষ্ট ভিড় না হওয়ায় জনসভাগুলোকে ঘিরে অনেক বিতর্ক হয়েছে৷ আতঙ্কিত হয়ে ট্রাম্প নিজের প্রচার অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারকে সরিয়ে দেন৷

ডাকযোগে ব্যালট সম্পর্কে তাঁর সংশয় ও বার বার সতর্কবার্তার ফলেও ট্রাম্পের মনে আতঙ্ক ফুটিয়ে তুলছে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন৷ তার উপর যে সব রাজ্যে তিনি ২০১৬ সালে জয়লাভ করেছিলেন, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন৷ তাই মরিয়া হয়ে ডিজিটাল প্রচারে মনোযোগ দিয়েছেন ট্রাম্প৷

সূত্র : ডয়েচে ভেলে।