নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিশ্বস্ত দেশগুলো থেকে ভ্যাকসিন আনা হয়েছে

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকা আমদানির ব্যাপারে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেই শুধুমাত্র বিশ্বস্ত দেশগুলো থেকে তা আনা হয়েছে।

গতকাল (রোববার) ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কেরমান প্রদেশে করোনা পরিস্থিতির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “শত্রুদের প্রতি চরম অবিশ্বাস থাকার কারণ আমরা শত্রুদেরকে বিশ্বাস করি না এবং তাদেরকে আমাদের জনগণের দেহে টিকা দেয়ার সুযোগ দিতে পারি না। কারণ আমরা জানি যে, শত্রুদের নিশ্চিত লক্ষ্য হচ্ছে ইরানি জনগণকে পঙ্গু বানানো।” এ সময় তিনি বলেন, অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে ইরানি জনগণকে পঙ্গু বানানোর ক্ষেত্রে তাদের প্রথম ষড়যন্ত্র।

জেনারেল সালামি বলেন, জৈব অস্ত্র ব্যবহার করা শত্রুদের সামরিক নীতি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি প্রশ্ন রেখে আরো বলেন- “আমরা যা জানি না তা কী করে আমাদের জনগণের দেহে পুশ করার সুযোগ দিতে পারি?

করোনাভাইরাসকে ঘিরে চলমান প্রপাগান্ডা সম্পর্কে আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার বলেন, এগুলো হচ্ছে শত্রুদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। কারণ তারা এ ধরনের প্রচারণা চালিয়ে দেখাতে চায় যে, ইরান তাদের ওপর নির্ভরশীল এবং তাদেরকে ইরানের প্রয়োজন।

বিদেশি ভ্যাকসিন কেনার ব্যাপারে যখন ইরান রক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করে তখন বিভিন্ন দেশ এবং তাদের গণমাধ্যম তেহরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে। এরই জবাবে মূলত জেনারেল আমি এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশ বিশ্বের যেকোন দেশের চেয়ে আলাদা কারণ আমরা যখন রহস্যজনক ও জটিল বৈশ্বিক রোগ মোকাবেলা করছি তখনই আমাদেরকে মারাত্মক রকমের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে জরুরি ওষুধপত্র এবং করোনাভাইরাসের টিকা কেনার জন্য আমরা আমাদের অর্থ ব্যবহার করতে পারছি না।

আইআরজিসি প্রধান বলেন, “শত্রুরা আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে কেন আমরা আমেরিকা থেকে ভ্যাকসিন আমদানি করি না। ভ্যাকসিন কেনার জন্য আমেরিকা আমাদের আটককৃত সম্পদ অবমুক্ত করতে দিচ্ছে না। তাহলে তারা কিভাবে এই সাংঘর্ষিক অবস্থাকে যুক্তিযুক্ত বলে তুলে ধরে? আমরা এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাজ করছি।

সূত্রঃ পার্সটুডে