নাসিমকে কটূক্তিকারী রাবির সেই শিক্ষক জামিনে মুক্ত

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার নুরুল আমিন।

তিনি জানান, গত ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের যৌথ বেঞ্চ কাজী জাহিদুর রহমানের জামিন আদেশ দেন। আদেশনামা রাজশাহী কারাগারে পৌঁছালে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

গত ১৭ জুন রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট তাপস সাহা বাদী হয়ে কাজী জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

ওই দিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোয়ার্টার থেকে কাজী জাহিদুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকাবস্থায় গত ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৯তম সিন্ডিকেট সভায় কাজী জাহিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রসঙ্গত গত ১ জুন রাতে মোহাম্মদ নাসিম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ‘তার অসুস্থতা নিয়ে’ ব্যঙ্গ করে নিজের ফেসবুকে স্টাটাস দেন শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান। সেই স্ট্যাটাসে সরাসরি মোহাম্মদ নাসিমের নাম উল্লেখ না থাকলেও স্পষ্ট তাকে ইঙ্গিত করে ‘বিষোদগার’ করার অভিযোগ ওঠে কাজী জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে।

ওই পোস্টগুলো সবার নজরে এলে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদুরের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন খোদ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিও তুলেন তারা।

পরে ১৫ জুন বিকালে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু।

অন্যদিকে শিক্ষক জাহিদুর রহমান নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের পদে ছিলেন। নাসিমকে কটূক্তির দায়ে গত ১৬ জুন জাহিদুর রহমানকে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও আজীবন বহিষ্কার করা হয়।