দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্তে ছোট গাড়িকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বাসযাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কমপক্ষে নয় ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফেরির নাগাল পাচ্ছে পরিবহণে আসা এসব যাত্রীরা। কয়েক ঘণ্টা বাসে অপেক্ষা করার পর বাস ছেড়ে দিয়ে পাটে হেটে অনেক যাত্রীদের ফেরিতে উঠতে দেখা গেছে।

শনিবার সকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে চার কিলোমিটার ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে চার শতাধিক যাত্রীবাহী বাস।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসার জন্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানজট এড়াতে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত গাড়ি আটকে রেখেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়ককে যানজটমুক্ত রাখতে সিরিয়ালে গোয়ালন্দ মোড় থেকে গাড়ি ছাড়া হচ্ছে।

মেহেরপুর থেকে আসা রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের বাস চালক জ্বালাল বলেন, গতকাল রাত ১২টায় গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত এসে সিরিয়ালে আটকে আছি। ১০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ফেরির নাগাল পাইনি। প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলকে অগ্রাধিকার দেবার কারণে আমাদের আটকে থাকতে হচ্ছে।

একাধিক বাস যাত্রী বলেন, ছোট গাড়ি বিশেষ করে প্রাইভেট কারে বড় অফিসার ও ব্যবসায়ীরা যায়। তাই ঘাট সংশ্লিষ্টরা তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করে। যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের পূর্বে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ১৯টি ফেরি চালু রাখলেও যাত্রী ভোগান্তির জন্য ফেরি কমিয়ে এনেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশি ব্যবস্থাপনার কারণে রাস্তায় কোনো যানজট হয়নি।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ রণি বলেন, ঈদের সময় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করলেও তিনটি ফেরি মাওয়া ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। যে কারণে এ রুটে ফেরি ১৬টি ফেরি চলাচল করে। গতকাল রাতে থেকে যাত্রী চাপের কারণে একটি ফেরি বৃদ্ধি করে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উপর তার কোনো হাত নেই বলে জানান বিআইডব্লিউটিসির এই কর্মকর্তা।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের চ্যালেঞ্জ ছিলো রাজবাড়ী সড়ক অথবা মহাসড়কের কোনো অংশেই যেন যানজটের সৃষ্টি না হয়। সেই লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় মহাসড়কের কোনো অংশে যানজট হয়নি। যে কারণে গাড়িগুলো সিরিয়ালে গিয়েছে।

তবে শুক্রবার শনিবার ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকবে এটা সবার জানা ছিলো। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ফেরি কমানোর কারণে শুক্রবার রাত থেকে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ছোট গাড়ির ব্যাপারে তিনি বলেন, তারাও বেশ কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে ফেরিঘাটে যাচ্ছে। শুধুমাত্র ফেরি কমানোর কারণে এই দুর্ভোগ হচ্ছে বলে জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।