দেশে গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করে জিয়া: ছাত্রলীগ সভাপতি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে সর্বপ্রথম গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান। আর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এস এম মাজহারুল হক অডিটোরিয়ামে উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর খুনি হিসেবে আখ্যা দিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান জয় বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাস্টারমাইন্ড ও বাস্তবায়নকারী ছিল জিয়াউর রহমান। পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। তাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি জিয়ার লোকেরা দেশে গুম খুনের রাজত্ব কায়েম করে। স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করে। দেশকে ধ্বংস করতে মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র এবং কালো টাকা তুলে দিয়ে দেশের ছাত্রসমাজকে বিপথগামী করে এই জিয়াউর রহমান।

জয় বলেন, বিএনপি দেশের ক্ষমতায় থাকাকালীন জিয়াউর রহমানের কুলাঙ্গার অশিক্ষিত পুত্র তারেক রহমান দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতো। জিয়াউর রহমানের সেই সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে তার পুত্র তারেক রহমান হাওয়া ভবনে বসে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। জিয়াউর রহমানের প্রেতাত্মার দল বিএনপি যদি এবার ক্ষমতায় থাকতো তাহলে দেশে হত্যা গুম অব্যাহত থাকতো। রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতো।

তিনি বলেন, জাতির পিতার খুনি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতেই তার পুত্র তারেক রহমান জঙ্গিদের দিয়ে ২১ আগস্ট এই গ্রেনেড হামলা করেছিল। এই মামলায় আদালত তারেক রহমানের যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাজা দিয়েছে আমরা ছাত্রলীগ সেটা মানি না।

এই মামলার পুনরায় তদন্ত করে হামলার পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের ফাঁসির দাবি করেন ছাত্রলীগ সভাপতি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বাধীনতার বিরোধীরা কোন ধরণের কটূক্তি করলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি কর্মী এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাজী রাজীবুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু।

সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে শেষ করতে চেয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীরা। কিন্তু তারা জানত না যে বঙ্গবন্ধু ফিনিক্স পাখির মত। তার মৃত্যু নেই। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি ইঞ্চি, বাংলার প্রতিটি মানুষের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু বিদ্যমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভা-সভাপতি তানজিদুল ইসলাম শিমুল, মোহাম্মদ হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক শামস্ ই নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সাত্তার, নাজিম উদ্দিন, উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল জব্বার রাজ, উপ সাহিত্য সম্পাদক এস এম রিয়াদ হাসান, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদুর রহমান লাফিজ, জসিমউদ্দিন, এমদাদুল হক মিলন, মাহবুবুর রহমান শোয়েব, আরিফ হোসেন নির্জল, সদস্য আরিফুল ইসলাম অপু, আসাদুল্লাহ, ভিপি নিহাদুল ইসলাম রাজু, কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রমজান আল জিহাদ, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ প্রমুখ।