দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হামলা ছিলো বৈরুতে?

লেবাননের ভয়াবহ বিস্ফোরণ নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হামলা বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। বোমা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলেও দাবি তার।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বৈরুতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সন্দেহের কথা তুলে ধরেন আউন।

তিনি বলেন, শস্যভাণ্ডার ধ্বংসের কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে এতে বাইরের কোনো দেশের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। রকেট হামলা, বোমা অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে গুদামঘরে হামলা হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন লেবানিজ প্রেসিডেন্ট।

জানা গেছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদেশি ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখতে চায় দেশটির সরকার। বিস্ফোরণের নেপথ্যে বিদেশি ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশ থাকতে পারে বলে মনে করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। তদন্তে এই বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

লেবানিজ প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনভাবে তদন্ত চলছে, প্রথমত বিস্ফোরক উপাদান কীভাবে গুদামঘরে ঢুকল এবং সংরক্ষণ কীভাবে করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনাবশত অথবা অবহেলার কারণে হয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবশেষ এতে বাইরের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তবে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদী লেবাননের প্রেসিডেন্ট।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫৭ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় লেবাননের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সাইপ্রাসের সরকার। তাছাড়া কাতার, ইরাক ও কুয়েত দেশটিতে চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৈরুতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দুটি ফিল্ড হাসপাতাল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কাতার।

এর আগে লেবাননের বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরপরই এ বিষয় বিস্তারিত জানিয়ে টুইট বার্তা দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল হাউন।

সে সময় টুইটে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, বৈরুত সমুদ্র বন্দরের কাছে একটি রাসায়নিক গুদাম থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত। সেখানে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল যা বোমা ও সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিপদজনক রাসায়নিক উপাদান সংরক্ষণে কোন সতর্কতা অবলম্বন না করার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য।

বিস্ফোরণের জন্য দায়ীদের চড়া মাশুল দিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।