দু’দেশের মধ্যে অবিশ্বাস রাতারাতি ঠিক হবে না, অবস্থার উন্নতি হচ্ছে: ভারতীয় সেনাপ্রধান

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে অবিশ্বাস রাতারাতি ঠিক হবে না, তবে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য কর্মকান্ড যেগুলিকে পাকিস্তান আস্কারা দেয় যেমন সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি, সন্ত্রাসের পরিকাঠামো তৈরি করা সেসব নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে যথারীতি চলছে। দশকের পর দশক ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ রয়েছে। সেটা রাতারাতি ঠিক হয়ে যাবে না। তবে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’

দুই দিনের কাশ্মীর সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টিভির।

নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সুরক্ষা বলয়গুলি আরও একবার পরখ করে দেখেন তিনি। বুধবার তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেনেন্ট গভর্নর মনোজ সিংহার সঙ্গেও দেখা করেছিলেন।

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে বলেন, কাশ্মীরে সহিংসতার সামান্য কিছু ঘটনা রয়েছে, অল্প কিছু পাথর ছোঁড়ার ঘটনা বা আইডি হামলার ঘটনা কাশ্মীরে ইদানিং হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি জারি রয়েছে। যদি তারা যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে চায় তবে তারা সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়া বন্ধ করে বিশ্বাসের জায়গাটা সুদৃঢ় করতে পারে।
ভারতের সেনাপ্রধান বলেন, সেনার কাজ হল এলাকায় সহিংসতার মাত্রা যতটা সম্ভব নামিয়ে আনা যাতে প্রশাসন ও স্থানীয় নিরাপত্তাবাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নতিতে কাজ করতে পারে। যাতে শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ মাত্র কয়েকটি হয়েছে। এসবই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরছে, স্থানীয় বাসিন্দারাও সেটাই চাইছেন।

সেনাপ্রধান নারাভানে বলেন, এই সাময়িক শান্তির ফলে কাশ্মীরের অনেক লাভ হচ্ছে। গত তিন মাস অনেকটাই শান্ত উপত্যকা। সংঘর্ষবিরতির মানে এই নয় যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধ থেমে গিয়েছে বা পাকিস্তান সেনা সে দেশের মাটিতে ভারতবিরোধী শক্তিগুলিকে ধ্বংস করছে। তবু ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে দু’দেশের যুদ্ধবিরতিতে সামগ্রিকভাবে কাশ্মীরের লাভ হয়েছে। বর্তমান সংঘর্ষবিরতি উপত্যকায় দীর্ঘদিন পরে শান্তির আবহ তৈরি করেছে।

ভারতের সেনাপ্রধান বলছেন, এখনই আমাদের এটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই যে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মাটিতে জামাত উল মুজাহিদিন, লস্কর বা আলবদরের জঙ্গিঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে গিয়েছে। এখনও সেখানে কাজ করছে ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিল।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন করে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি সাক্ষর হওয়ার পর জম্মু এলাকায় অন্তত নতুন করে দুই দেশের সেনার মধ্যে কোনও উল্লেখযোগ্য সংঘর্ষ হয়নি।

জেনারেল নারাভানে বলেন, সীমান্তের শান্তি দুই শিবিরের জন্যই উপকারি। সীমান্তের দুই দিকে যে সব সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের বিভীষিকা সহ্য করতে হয়। এই যুদ্ধবিরতি দুই শিবিরের জন্যই সুখবর এনেছে। আমি নিশ্চিত পাকিস্তান সেনাও সেটা বুঝবে।