থানায় হামলায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সহ ১৫জনের বিরুদ্ধে মামলা

অপহরণ মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নিতে কামারখন্দ থানায় হামলা চালানোর অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন শেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ঘটনার সময়ই ছাত্রলীগ নেতা মামুনকে আটকও করা হয়েছে। এস.আই বিপ্লব বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

বাদীর এজাহারে উল্লেখ করেছেন, মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয় হত্যা মামলার বাদী বড় ভাই রুবেলকে অপহরণের অভিযোগ এনে তার বাবা কাদের প্রমানিক থানায় মামলা দায়ের করেন।

এরপরই মামলার এজাহারভুক্ত আসামী কামারখন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ রেজা পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদ পেয়ে ১০০/ ১৫০জন জনতাকে নিয়ে থানার সামনে হাজির হয়ে পাভেলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকে। তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য ও শ্লোগানে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং ছাত্রনেতা মামুন যে কোন মূল্যে গ্রেপ্তার পাভেলকে ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি দেয়।

২ ঘন্টাব্যাপী এ অবস্থা চলার একপর্যায়ে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মামুনের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ১৪/১৫ থানার থানা কম্পাউন্ডের ভিতরে প্রবেশ করে এবং গ্রেপ্তার পাভেলকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য মূল ভবনের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।

এতে বাধা দিলে তারা পুলিশের উপর চড়াও হয় এবং ধস্তাধস্তি শুরু করে। এ অবস্থায় লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে অন্যরা পালিয়ে গেলেও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে নিহত বিজয়ের বাবার দায়ের করা অপহরণ মামলারও প্রধান আসামি।

এদিকে, মামলার এজাহার এবং এ প্রতিবেদকের সংগ্রহে থাকা থানায় হামলার সময়ের ভিডিও’র সাথে কিছু গড়মিল পাওয়া গেছে।

এজাহারে থানার ভিতরে ১৪/১৫জন প্রবেশের কথা উল্লেখ্য করা হলেও ভিডিওতে প্রায় দেড় শতাধিক লোকের সমাগম দেখা গেছে। শুধু লাঠিচার্জের মাধ্যমে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে বলা হলেও শোনা গেছে কয়েকটি শটগানের গুলির শব্দ। থানার সামনের রাস্তায় আগুণ ধরিয়ে দেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ নেই এজাহারে।

অপরদিকে, পুলিশের ছোঁড়া শটগানের গুলিতে থানায় হামলা করতে আসা ৮/১০জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ভদ্রঘাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেনকে আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত ইব্রাহিমের বাবা চৈরগাতি ভদ্রঘাট গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, ঘটনার দিন অন্যান্যদের সাথে আমার ছেলেও কামারখন্দ থানায় গিয়েছিল। পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু আমার ছেলের অবস্থা বেশি গুরুতর।

তার মুখে গুলি লেগেছে। ঢাকার একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২ আগস্ট বিজয় হত্যা মামলার বাদী বড় ভাই রুবেলকে কামারখন্দ বাজার এলাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করা হয়। হত্যা মামলা তুলে নিতে এবং নিহত বিজয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ও মেমোরি কার্ডের জন্য চাপ দেয় অপহরণকারীরা।

একপর্যায়ে রুবেলের চিৎকারে বেকায়দায় পড়ে গিয়ে অপহরণকারীরা তাকে বগুড়ার মাঝিরা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দেয়। স্থানীয় একটি মসজিদের মুসুল্লিরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় পায়। শাহজাহানপুর থানা পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধারের করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

এরআগে ২৬ জুন শহরে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও কামারখন্দ সরকারী হাজী কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি বিজয়কে মাথায় কুপিয়ে আহত করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯দিন পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বড় ভাই রুবেল বাদী হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় বর্তমানে ৩জন জেল হাজতে রয়েছে।

এ অবস্থায় নিহত বিজয় স্মরণে মিলাদ মাহফিলকে কেন্দ্র করে ৭জুন ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় পাল্টাপাল্টি আরও ৪টি মামলা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপে ৮ জুলাই থেকে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় তালা বন্ধ এবং সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দলীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ডিবি পুলিশ বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছেন।