তুরস্ক-গ্রিস উত্তেজনা তুঙ্গে

সমুদ্রসীমার বিরোধ নিয়ে তুরস্ক-গ্রিস উত্তেজনা তুঙ্গে। সেই আগুনে ঘি ঢাললো এথেন্সের সামরিক টহল।

গ্রিসের যুদ্ধবিমানের গতিরোধ করার দাবি করেছে আঙ্কারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করে তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তাদের দাবি, গ্রিসের ছয়টি এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমান ভূমধ্যসগারের তুর্কি আকাশসীমায় ঢুকে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা রাডারে ধরা পড়ে। পরে ঐ যুদ্ধবিমানগুলোকে ধাওয়া দেয়া হয়।

তবে আঙ্কারার অভিযোগ নাকচ করে এথেন্সের দাবি, নিয়মিত টহল দেয়ার সময় তুর্কি যুদ্ধবিমানের হয়রানির শিকার হয়েছে গ্রিসের যুদ্ধবিমান।

 

দুই দেশের এমন উত্তেজনার মধ্যেই জরুরি বৈঠক ডেকেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বার্লিনে ইইউ’র দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের হুমকি মোকাবিলায় গ্রিসের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানায় আঞ্চলিক এ জোট।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থ রক্ষা, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তুরস্ককে অবশ্যই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এটা আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্য প্রধান কাজ। তুরস্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করেই সবকিছু করতে হবে। বিতর্কিত অঞ্চলে তুরস্কের উপস্থিতি সেটি বাধাগ্রস্ত করবে। বলেন জোসেপ।

গ্রিসের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন থাকলেও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল।

বলেন, ইউরোপের প্রতিটি দেশই গ্রিসের পাশে রয়েছে। গ্রিসের স্বার্থ রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিষয়টি সমাধান করতে হবে। আমার মনে হয়, এ বিষয়ে উভয়পক্ষের সাথেই আলোচনা করা উচিত। দেশ দু’টিকে আলোচনার টেবিলে আনতে জার্মানি মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

এর আগে, জলসীমার নিয়ন্ত্রণ রাখতে মিসর ও ইতালির সঙ্গে চুক্তির অনুমোদন দেয় গ্রিসের পার্লামেন্ট। বলা হচ্ছে, লিবীয় সমুদ্রসীমায় তুরস্কের খনিজ সম্পদ সন্ধান বাধাগ্রস্ত করবে এথেন্স-কায়রো এবং এথেন্স-রোম চুক্তি। এতে ভূমধ্যসাগরে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়ছে তুরস্ক।

তবে, গ্রিসের সমুদ্রসীমা সম্প্রসারণের পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলকে যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে বলে আগেই হুঁশিয়ার করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় আঙ্কারা পুরোপুরি প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছে তুর্কি পার্লামেন্টের স্পিকার।