‘তিন মোড়লের’ বাইরের কাউকে আইসিসির সভাপতি চায় পাকিস্তান

আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের কাউকে চায়না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

এই তিন দেশের বাইরে কেউ দায়িত্ব নিলে তা সংস্থাটির জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে মনে করেন পিসিবির চেয়ারম্যান এহসান মানি। রাজস্ব বণ্টনে বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। পিসিবি প্রধান আরও বলেন, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এতোটা টানাপোড়েন দেখেননি আগে কখনও।

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের রুমটা একরকম তালাবন্ধ। গেলো পহেলা জুলাই শশাঙ্ক মনোহর ইস্তফা দেয়ার পর থেকেই শূন্য আইসিসির শীর্ষ কর্তার চেয়ার।

১৭ সদস্যের বোর্ড এই দুই মাসে নতুন অভিভাবক বেছে নিতে পারেনি। করোনার চরম সংকটের মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটের যখন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তখন বোর্ডের এই কালক্ষেপণ নিয়ে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক।

বোর্ডও আছে চাপে। কর্তাদের স্বার্থের সংঘাতে ফাইল নিয়ে চলছে চালাচালি। তিন মোড়ল নীতি বিলীন হওয়ার মধ্য দিয়ে বিকল্প শক্তির উত্থানের চেষ্টা চলছে। যাতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার পাকিস্তান।

 

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেন, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের হাত ধরে ২০১৪ সালে যে রাজনীতির সূত্রপাত, সেই জালে তারা নিজেরাই জড়িয়ে গেছে।

এই তিন বোর্ডের বাইরে থেকে কেউ আইসিসির নেতৃত্বে এলে পরিবেশ আরো ভালো হবে। আইসিসিতে স্বার্থের সংঘাত চরমে। ১৭ বছরে আমি এমনটা দেখিনি। প্রভাবমুক্ত পরিচালকের হাতে দায়িত্ব দেয়াটা অত্যাবশ্যক।

বিগ থ্রি’র দুরভিসন্ধি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিসিসিআই, সিএ আর ইসিবির ছক অনুযায়ী, ২০১৬-২৩ এই ৭ বছরে আইসিসির দুই দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ৪০৫ মিলিয়ন ডলার পেতো ভারত। কিন্তু, পালাবদলের পর ২০১৭ সালে সুষম বণ্টনের চেষ্টা করেন শশাঙ্ক মনোহর। নতুন মডেল অনুযায়ী ১৩৯ মিলিয়ন ডলার করে আয় করবে ভারত ও ইংল্যান্ড। অন্য বোর্ডগুলোর ক্ষেত্রে তা হবে ১২৮ মিলিয়ন।

এহসান মানি বলেন, শুধু অর্থ বণ্টনেই ভারত আর ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলো সুবিধা পাচ্ছে, তা নয়। আইসিসি ইভেন্টের বিন্যাস নিজেদের সুবিধামতো করে তারা। নিজেদের বেলায় আয়োজক হিসেবে আইসিসির কোষাগার থেকে মুনাফাও পছন্দমতো তুলে নেয়। ২০১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যা আয় করেছে তা পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার ৮ বছরের আয়ের সমান। এই ফান্ডিং মডেলে কিছু কিছু দেশের টিকে থাকাই মুশকিল।

পুরো সিস্টেমেই পরিবর্তন চান পিসিবি চেয়ারম্যান। ২০২৩-৩১ এই সাইকেলে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট আয়োজনে আইসিসিতে ধরনা দিচ্ছেন তিনি।

এহসান মানির কথায়, এই সময়ে আমরা একটা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাই। তিন থেকে চারটি ইভেন্ট আয়োজনের আগ্রহের কথা জানিয়েছি। এমনকি প্রয়োজনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করবো, এ’ও বলেছি।

আইসিসির অতি ভারত নির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে সরে আসারও আহ্বান জানান পিসিবি প্রধান।