তালেবানের নজর বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে

প্রায় দুই দশক পর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনারা আফগানিস্তানের বাগরাম বিমান ঘাঁটি ত্যাগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাতে এএফপি নিউজ জানিয়েছে, বাগরাম বিমানঘাঁটি থেকে সামরিক জোটের সব সেনা চলে গেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্রায় বিশ বছর ধরে এই ঘাঁটি থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী তালেবান এবং আল কায়েদার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের বাগরাম ছেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ হচ্ছে।

বিদেশি সেনাদের চলে যাবার খবরে আশান্বিত তালেবান আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। তারা বেশ কিছু জেলায় তাদের আধিপত্য বিস্তার করেছে। বিদেশি বাহিনী পুরোপুরি আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর নতুন করে আবার গৃহযুদ্ধ বাধার আশংকা রয়েছে।

বাগরামের দখল নেওয়া খুবই তাৎপর্যপূর্ণ জানিয়ে বিবিসির আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী বিষয়ক প্রধান সংবাদদাতা লিস ডুসেট বলেছেন, বিমান ঘাঁটির দেয়ালের ভেতর রয়েছে বিপুল পরিমাণ সামরিক রসদের ভাণ্ডার। এই অস্ত্র সম্ভারই তালেবানের জন্য শীর্ষ টার্গেট।

তিনি বলেন, বাগরাম ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক নির্দেশক। খুবই শিগগিরই শহরের মধ্যে এই বিস্তীর্ণ ও ব্যস্ত বিমানঘাঁটি এলাকার দখল নেবার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে।

তিনি বলেন, প্রতীকী অর্থে এবং কৌশলগত কারণেও এই বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জরুরি। তালেবান যোদ্ধারা দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে যেভাবে এগোচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট যে তাদের নজর বাগরামের ওপর।

বিবিসির ডুসেট বলেন, বাগরাম বিমান ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে যে শহর এলাকা গড়ে উঠেছে, গত বছরের অক্টোবরে সেখানে গিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের তিনি বলতে শুনেছেন; তালেবান শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আমেরিকান বাহিনী যখন বিমান ঘাঁটি ছাড়ার জন্য তল্পিতল্পা গুছাচ্ছিল, তখন সেখানে গিয়ে তিনি বিদেশি সেনাদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে-আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে মিশ্র মনোভাব লক্ষ্য করেন।

তবে এই বিমান ঘাঁটিকে ঘিরে যে জনপদ ও জীবিকা গড়ে উঠেছে, যার ওপর বহু সাধারণ মানুষের রুটি রুজি নির্ভর করছে, তারা এখন তাদের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিতাগ্রস্ত। ডুসেট বলেন, বাগরামের যে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

সূত্র: বিবিসি