তালেবানকে অস্ত্র দিচ্ছে ইরান: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ; তেহরান বলছে ভিন্ন কথা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন মুখপাত্র সাইদ খাতিবযাদেহ বলেছেন, বর্তমানে আফগানিস্তানে যে অস্থিরতা ও সহিংস পরিবেশ বিরাজ করছে তার জন্য দায়ী ওই দেশটিতে মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং যুদ্ধের বিস্তার ঘটানো।

তালেবানদের কাছে ইরান অস্ত্র বিক্রি করছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে অভিযোগ করেছে তা প্রত্যাখ্যান করে খাতিবযাদেহ এ কথা বলেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরো বলেছেন, উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসকে ওয়াশিংটনের সাহায্য সহযোগিতার বিষয়টিকে আড়াল করতে আফগান জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে উগ্র আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে এবং এর জন্য এ দেশটিকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও ইরানের বিরুদ্ধে তালেবানকে সহায়তার মার্কিন ভিত্তিহীন অভিযোগ রাজনৈতিক তিক্ত কৌতুক ছাড়া আর কিছু নয়। এমন একটি দেশ ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ তুলল যখন তারা নিজেরাই বহু বছর ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের প্রধান উৎস সৌদি আরব ও দখলদার ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে।

কোনো কোনো দেশ বহুদিন ধরে ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আফগানিস্তানে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং দেশটিতে একটি সর্বদলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগ থেকে বোঝা যায় তারা শুধু আফগানিস্তান নয় বরং সমগ্র এ অঞ্চলে অশুভ উদ্দেশ্য হাসিলে হতাশ হয়ে পড়েছে এবং চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। আমেরিকা গত ১৯ বছর ধরে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধ করে আসছে ও ব্যাপকভাবে সমালোচিত। এ কারণে তারা এখন নানা ফন্দি ফিকিরের মাধ্যমে নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে ইরান আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক সাঈদ বাকের যাকি এসকোনি বলেছেন, তার দেশ ইরাক, আফগানিস্তানসহ সমগ্র এ অঞ্চলে সংকট সমাধানের জন্য সহায়তার পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশকে খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে।

প্রকৃতপক্ষে, তালেবান ও দায়েশ তথা আইএস সন্ত্রাসীদেরকে আমেরিকা সরাসরি সাহায্য করছে। বেশ ক’বছর আগে ইরাক ও সিরিয়া থেকে এসব সন্ত্রাসীদেরকে আফগানিস্তানে স্থানান্তর করে খোদ মার্কিন সেনারা। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায় যুক্তরাষ্ট্র তিনটি কারণে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার জন্য ইরানকে দায়ী করছে।

প্রথমত, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ শক্তির হাতকে আরো শক্তিশালী করতে ইরানের ভূমিকা ও এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বিস্তার এবং আফগানিস্তানে মার্কিন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন।

দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থ হুমকির মুখে পড়েছে।তৃতীয়ত, ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে দেশটি আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

এসব কারণে আমেরিকা যেভাবেই হোক নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইরানের বদনাম করার চেষ্টা করছে।আসলে নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে ব্যর্থ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা ইরানের বিরুদ্ধে তালেবানকে অস্ত্র সরবরাহের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।