ঢাকার বাহিরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে ১৪৮ জনের মৃত্যু

সারাদেশে ব্যাপক আক্রারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বাহিরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ খুলনা বিভাগে মারা গেছেন ৫১ জন। আর রাজশাহীতে ১৮, বরিশালে ১৭, রংপুরে ১৫, টাঙ্গাইলে ৭, ফরিদপুরে ১২, ময়মনসিংহে ১৫, সিলেটে ৮ ও চট্টগ্রামে ৫ জন মারা গেছেন।

খুলনা : সোমবার (৫ জুলাই) বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসে খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ ৫১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে তারা মারা যান। এর আগে গত ২৮ জুন সর্বোচ্চ ২৫ জন মারা যান। নতুন করে মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে পাঁচজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। ১২ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। আর একজন করোনা নেগেটিভ ছিলেন। তিনি শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। মৃত ১৮ জনের মধ্যে রাজশাহীর আটজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন, নাটোরের তিনজন, নওগাঁর চারজন, এবং পাবনা ও কুষ্টিয়ার একজন করে রোগী ছিলেন।

বরিশাল : বরিশাল বিভাগেও করোনা আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একদিকে বরিশাল বিভাগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বেড়েছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এই বিভাগে একই সময়ে মারা গেছেন ১৭ জন, শনাক্ত ৪৩৬। এ সময়ে করোনায় ছয়জন এবং উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর : গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় করোনা আক্রান্ত ১৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে এ বিভাগে ৬৩ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৯৭৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৬৭৬ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তের হার ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে দিনাজপুরে ৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩, রংপুরে ৩ জন, লালমনিরহাটে ২ এবং পঞ্চগড়, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে একজন করে রয়েছেন।

টাঙ্গাইল : গত ২৪ ঘন্টায় টাঙ্গাইলে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫জন ও উপসর্গ নিয়ে ২জন মারা গেছে। এদিকে নতুন করে জেলায় ৫৮১ টি নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে ২২৭ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার শতকরা ৩৯ দশমিক ৭ ভাগ।

ফরিদপুর : গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় তিনজন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১৯৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৪৭ দশমিক ০৫ ভাগ। জেলায় মৃতের হার ১ দশমিক ৭০ ভাগ।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিকেল (মমেক) কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনায় আরও ৬ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় মৃতদের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার ৩ জন, নেত্রকোণার ২ জন এবং টাঙ্গাইলের ১ জন। উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহের পাঁচজন, শেরপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর এবং সুনামগঞ্জের একজন করে।

সিলেট : গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও আট জন মারা গেছেন। এরমধ্যে সিলেটের চার জন, হবিগঞ্জের দুই এবং মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের একজন করে রোগী রয়েছেন। গত বছরের মার্চ থেকে এ বছরের ৫ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনায় ৪৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন সিলেট জেলায়। এ জেলায় করোনায় ৩৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে ৩৪ জন, হবিগঞ্জে ২১ জন ও মৌলভীবাজারের ৩৭ জন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন ল্যাবে এক হাজার ৬৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৫৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে নগরের ৪১৪ ও উপজেলার ১৪৫ জন।