ঠিকাদারকে ২০ কোটি টাকা হাতানোর সুযোগ দিলেন রসিক মেয়র

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ৪৯ কোটি টাকার স্ট্রিটলাইটিং প্রকল্পের ৮টি গ্রুপের সব কটি কাজ পেয়েছেন মেয়রের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিশেষ এ প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দিতে গোপনীয় অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট সরবরাহই শুধু নয়, মেয়রের বিরুদ্ধে টেন্ডারের স্পেসিফিকেশন পাল্টে দেয়ার অভিযোগও করেছেন প্রকল্প পরিচালক। যার মাধ্যমে নিম্নমানের বাল্ব সরবরাহ করে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্ট্রিট লাইটিং প্রকল্পের ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য ক্রয়ের জন্য ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর ৮টি গ্রুপে ৪৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করে রংপুর সিটি করপোরেশন। ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলে মেয়রের পছন্দের এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড ও মেসার্স খাইরুল কবীর রানা ৮টি গ্রুপেই হন সর্বনিম্ন দরদাতা।

যে দর সিটি করপোরেশনের অফিসিয়াল এস্টিমেটের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। পরে এডেক্স করপোরেশন লিমিটেডই পায় ৮টি গ্রুপের সবগুলো কাজ। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় ইলেক্ট্রিক্যাল শাখার ইনচার্জ ছিলেন একজন উপসহকারী প্রকৌশলী। কার্যাদেশ নিয়ে এরইমধ্যে এডেক্স কাজ শুরু করলেও এই শাখার বর্তমান ইনচার্জ কিছুই জানেন না।

রংপুর সিটি করপোরেশনের ইলেক্ট্রিক্যাল শাখা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, এসি স্যার ডিপার্টমেন্টের হেড, তার মাধ্যমেই সবকিছু হয়।

 

রংপুর সিটি করপোরেশনের ইলেক্ট্রিক্যাল শাখা ইনজার্জ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, টেন্ডার হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি দায়িত্বে ছিলাম না।

টেন্ডারের স্পেসিফিকেশনে সুনির্দিষ্টভাবে ইউরোপ, জার্মান ও হল্যান্ডের ৩০ ওয়াটের বাল্বের উল্লেখ থাকলেও সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের অভিযোগ, তার নিষেধ উপেক্ষা করে টেন্ডারের শর্তে বিকল্প হিসাবে চায়নার এলইডিভান্স ৬০ ওয়াটের লাইটের কথা উল্লেখ করেন মেয়র।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন বলেন, আমি মেয়রকে বলেছি, স্যার চায়নার পণ্য আপনি নিতে পারবেন না। উনি আমাকে বলেন, এটা আমার কথা আপনি লেখেন আর না হয় ফাইলে আমি লিখে দেই। তখন এইটা উনি লিখে দেন।

পুরো ঘটনায় মেয়রের ভাই ও স্ত্রী জড়িত উল্লেখ করে দরপত্রে অংশ নেয়া এক ঠিকাদার দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পরিবারের কারও জড়িত থাকার কথা জোর গলায় অস্বীকার করেন মেয়র।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের কোনো কাজে আমার পরিবারের কেউ সংযুক্ত নয়।

টেন্ডার প্রক্রিয়াতেই ঠিকাদারকে অন্তত ২০ কোটি টাকা লাভের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।