ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর রেজাউল হত্যা মামলা : ৩ জনের ফাঁসি

ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ভানোর কৈমারি গ্রামে একটি বাঁশঝাড়ে রেজাউল ইসলাম নামে এক যুবককে পৈশাচিকভাবে হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে ঝলসানোর দায়ে মো. সুইট আলম (২৪), মেকদাদ বিন মাহাতাব ওরফে পলাশ (২৪) ও মো. হাসান জামিল (২৭) নাম তিন জনকে আমৃত্যু ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে (সাড়ে ৪টায়) ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিএম তারিকুল কবীর আদালতে এই রায় প্রদান করেন।

দণ্ডিত আসামিরা হলেন, মো. সুইট আলম নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বারিল্যা উত্তরপাড়ার মৃত আকবর আলি সর্দারের ছেলে, অপর আসামি মেকদাদ বিন মাহাতাব ওরফে পলাশ দিনাজপুর চিরির বন্দর দক্ষিণ পলাশবাড়ী গ্রামের মাহতাব উদ্দিন শাহ্ এর ছেলে ও মো. হাসান জামিল ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর সরকার পাড়া গ্রামের বজির উদ্দীনের ছেলে। আসামি হাসান জামিল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে পলাতক রয়েছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার আন্ধারমুহা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম স্থানীয় টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে লেখাপড়ার পাশাাপশি ওয়াল্ডভিশন ২১ নামে একটি মাল্টিলেবেল কম্পানিতে চাকরি করতেন। একই সঙ্গে চাকরি করার সুবাদে দণ্ডিত আসামিদের সঙ্গে রেজাউলের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারা সকলে মিলে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গিয়ে ওই কম্পানির নতুন অফিস খোলার কাজ করাকালে নিহত রেজাউলের বাজাজ মোটরসাইকেলের প্রতি অপর বন্ধুদের চোখ পড়ে। তারা ওই মোটরসাইকেলটি নিজেরা হাতিয়ে নিতে রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটে এবং তাকে আসামি হাসান জামিলের বাড়ি এলাকায় জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর এলাকায় নিয়ে আসেন।

২০১৫ সালের ৪ মার্চ সন্ধ্যায় দণ্ডিত আসামিরা সকলে মিলে নিহত রেজাউল ইসলামকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর কৈমারী গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা মতে তারা রেজাউল ইসলামকে ঘাড় মটকে ও রশি দিয়ে গলায় পেচিয়ে হত্যা করে। পরে তার পড়নের কাপড় ও বাঁশঝাড়ের শুকনা ডালপাতা দিয়ে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে বিকৃত করে। মামলার এজাহার, আসামিদের স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত উপরোক্ত রায় প্রদান করেন।