টিকা সরবরাহকারী হিসাবে বড় ধাক্কা খেল চীন

উন্নয়নশীল দেশগুলিতে প্রভাবশালী টিকা সরবরাহকারী হিসাবে বড় ধাক্কা খেল চীন। ব্রাজিলিয়ান গবেষকরা ঘোষণা করেছেন যে চীনের সিনোভাক টিকা মূলত যতটা দাবি করা হয়েছে তার চেয়ে কম কার্যকর। ব্রাজিলে এ টিকা ৫০ দশমিক ৩৮ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। দেশটিতে চালানো পরীক্ষায় এমন কার্যকারিতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

দেশটির সাও পাওলো-ভিত্তিক পাবলিক ইনস্টিটিউট ব্রাজিলের বুটানটান ইনস্টিটিউটের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, লেট ট্রায়ালে সিনোভাকের করোনা টিকার কার্যকারিতা মাত্র ৫০.৩৮ শতাংশ। এটি প্রাথমিক তথ্যের তুলনায় প্রায় পয়েন্ট ৩০ শতাংশ কম।

বুটানটান ইনস্টিটিউট প্রাথমিকভাবে বলেছিল যে লেট ট্রায়ালের পরীক্ষাগুলিতে করোনাভ্যাক টিকাটি ৭৮ শতাংশ থেকে ১০০ এর মধ্যে কার্যকর বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে। এর পর বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনে বুটানটান ইনস্টিটিউটের আয়োজকদের বিচারের দাবি জানায়।

তবে বুটানটান ইনস্টিটিউট জানায়, গবেষকরা টিকা গ্রহনকারীদের ছয়টি বিভাগে বিভক্ত করেছেন: সংহতিহীন, অত্যন্ত হালকা, হালকা, মাঝারি স্তরের দুটি এবং গুরুতর। তারা জানায়, পূর্বের হারগুলিতে কেবল স্বেচ্ছাসেবীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল যাদের হালকা ও গুরুতর বিভাগে রাখা হয়েছিল। তাদের দাবি, মৃদু আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই টিকা ৭৮ দশমিক ৮ ভাগ কার্যকর। এছাড়া যারা গুরুতরভাবে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা শতকরা ১০০ ভাগ।

সাধারণত ৫০ ভাগের ওপর কার্যকর হলে টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ব্রাজিলে চালানো পরীক্ষায় সিনোভ্যাকের টিকা সেই ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ব্রাজিল সরকার পরীক্ষার জন্য করোনার যে দুটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে তার মধ্যে চীনের সিনোভ্যাকের টিকা একটি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, গুরুতর ক্ষেত্রে করোনা প্রতিরোধে করোনাক টিকাটি শতভাগ কার্যকর ছিল। এটি কিছু ফ্লু টিকার চেয়ে এখনও বেশি কার্যকর এবং সাধারণ রেফ্রিজারেটরে কম খরচে সংরক্ষণ করা যায়। তাই এটি উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক করোনাভ্যাকের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। সাও পাওলো কর্তৃপক্ষ আগামী ২৫ জানুয়ারী থেকে টিকা দেওয়া শুরুর পরিকল্পনা করেছে।

চীনা টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক করোনাভ্যাক টিকাটি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে এই টিকা সাহায্য করবে। ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই টিকা কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

সিনোভ্যাকের টিকায় বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ফল দেখা গেছে। গত মাসে তুরস্কের গবেষকরা বলেছেন, সিনোভ্যাকের টিকা ৯১ দশমিক ২৬৫ ভাগ কার্যকর, অন্যদিকে বুধবার ইন্দোনেশিয়ায় গণ-ভ্যাকসিন কর্মসূচিতে এই টিকার কার্যকারিতা পাওয়া গেছে ৬৫ দশমিক ৩ ভাগ।

এখন পর্যন্ত করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে ব্রাজিল অন্যতম। বর্তমানে দেশটিতে আবারো সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পর দেশটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ।