‘টাকা উদ্ধারে’ দেশে ফিরতে চান পিকে হালদার

প্রায় ৩৬ শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সেই প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) দেশে ফিরতে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।

তবে দেশে ফিরে জীবনের নিরাপত্তার জন্য আদালতের হেফাজতে যেতে চান তিনি। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে আবেদনে।

সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে পি কে হালদারের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন এ আবেদন করেন। এ সময় আবেদনের শুনানিতে আদালত পি কে হালদারের আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, কবে, কোন বিমানে দেশে আসতে চান তা আদালতকে জানান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীসহ সব পক্ষের কথা শুনে আইন অনুযায়ী আদেশ দেবেন বলে জানান আদালত। দেশে এসে আইনের হেফাজতে পি কে হালদারকে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। আদালতের আদেশের বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি প্রায় ৩৬ শত কোটি টাকা পাচার করার ঘটনায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ১৩ পরিচালকের সব সম্পদ, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও পাসপোর্ট আটকানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে পিকে হালদারের মা, স্ত্রী, ভাইসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া পিকে হালদারসহ এই ২০ জনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় এবং তাদের গত ৫ বছরের আয়কর রিটার্ন হাইকোর্টে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই প্রতিষ্ঠানের ৭ আমানতকারীর করা এক আবেদনে এ আদেশ দেন হাইকোর্টের কম্পানি আদালত। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আইএলএফএসএলের দুইজন পরিচালক আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

এ অবস্থায় পিকে হালদার দেশ থেকে পালিয়ে যান। তিনি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি দেশে ফিরতে চান। এ বিষয়ে আইএলএফএসএলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার কানাডা থেকে আইএলএফএসএলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আইএলএফএসএলকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

তাতে বলা হয়, আইএলএফএসএলের খেলাপি ঋন আদায়ে সহযোগিতা করতে তিনি দেশে ফিরতে চান। তবে দেশে ফিরলে তাকে পুলিশি হেফাজতে না নিয়ে আদালতের হেফাজতে নেয়া হয়-এমন নিরাপত্তা চান তিনি। জীবনের নিরাপত্তা চান তিনি। ওই চিঠিও আদালতে উপস্থাপন করেন আইএলএফএসএলের আইনজীবী। পরে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

বহুল আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই দুটি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করে তা পাচার করেছেন।

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএলএফএসএল থেকে ১৫৯৬ কোটি টাকা সরানো হয়েছে। এরসঙ্গে পিকে হালদারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।