জেরুজালেমে ইহুদিদের মিছিলের অনুমতি দিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিদায়ী সরকার পূর্ব জেরুজালেমের পুরনো নগরীতে কট্টরপন্থী ইহুদিদের মিছিল করার অনুমতি দিয়েছে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় আয়োজকরা মিছিলটি বাতিল করেছিল। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার এই অনুমতি দিলো ইসরায়েল সরকার। ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহুর্তে এসেও সঙ্ঘাতে জড়াতে চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সে লক্ষ্যেই তিনি কট্টর ডানপন্থীদেরে জেরুসালেমে পদযাত্রার এ অনুমতি দিয়েছেন। অথচ পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি না পেয়ে কর্মসূচী বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আয়োজকরা।

এরই মধ্য ইসরায়েলে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। আগামী রবিবার দেশটির আইন সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন সরকারকে অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিনই জানা যাবে কবে নাগাদ দায়িত্ব ছাড়বেন নেতানিয়াহু। তবে ক্ষমতায় না থাকলেও ইসরায়েলের সঙ্গে তার নাম উচ্চারিত হবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য। বিশেষ করে ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহুর্তে উগ্রবাদীদের সঙ্গে নিজের একাত্মতা প্রকাশ তারই প্রমান দেয়।

ইসরায়েলের ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রাচীন নগরীর দামেস্ক গেইট এবং জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে পতাকা নিয়ে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছিল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার এই পদযাত্রা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গাজার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হলে আবারো সংঘাত শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করে দেওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

গত মাসের শুরু দিকে ১০ মে জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদ এবং শেখ জাররাহ বসতিতে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন তুমুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়ে যায়। শেখ জাররাহ থেকে বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের অবৈধ উৎখাতের বিরুদ্ধে সেখানকার বাসিন্দারা আন্দোলন শুরু করলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের এই সংঘর্ষ গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মিসরের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে ১১ দিনের এই সংঘাতের অবসান ঘটে। কিন্তু ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে আরব-ইহুদি সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

গত সোমবার ইসরায়েলি পুলিশ বলছে, প্রাচীন নগরী জেরুসালেমে আয়োজকদের পূর্ব-পরিকল্পিত আগামী বৃহস্পতিবারের পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে পদযাত্রার স্থানে পরিবর্তন এনে আবেদন করা হলে পুলিশ অনুমতির বিষয়টি বিবেচনা করবে। পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো তাদের পদযাত্রা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীসভার বৈঠকে আলোচনা করে পদযাত্রা হওয়ার পক্ষে মতামত দেয়। তার অফিস থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রীরা পদযাত্রার অনুমোদন দিয়েছে। এটা অনুষ্ঠিত হবে আগামী সপ্তাহে।

নেতানিয়াহুর অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আগামী ১৫ জুন যথাযথ নিয়ম মেনেই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আয়োজকদের সহযোগিতা করবে পুলিশ।’ এদিকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ক্ষমতা থেকে বিদায়ের ধারপ্রান্তে রয়েছেন। আগামী রবিবার দেশটির আইনসভায় একটি জোট সরকার গঠনের পক্ষে ভোটাভোটি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই ভোটে হেরে গেলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ দিনের ক্ষমতার অবসান হবে।

সূত্র : ডেইলি সাবা।