জেনারেল সোলেইমানির হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে: জাতিসংঘে ইরান

ইরান বলেছে, সেদেশের কুদস ফোর্সের সাবেক কামন্ডার শহীদ লে. জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যাকাণ্ড ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ প্রকৃষ্ট উদাহরণ; কাজেই জাতিসংঘের এ বিষয়টি হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে এ ঘোষণা দেন জাতিসংঘের ইউরোপীয় দপ্তরে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ইসমাইল বাকায়ি হামানে।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি অ্যাগনেস ক্যালামার্ড গত বছর এক প্রতিবেদনে জেনারেল সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডকে ‘স্বেচ্ছাচারী হত্যাকাণ্ড’ বলে যে মন্তব্য করেছিলেন সে সম্পর্কে হামানে বলেন, ওই পরিভাষা দিয়ে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা পুরোপুরি দেয়া সম্ভব হয়নি এবং এ কারণে জাতিসংঘ যেন বিষয়টিকে মোটেই হালকাভাবে না নেয়।

ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, জেনারেল সোলেইমানি ছিলেন উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখসারির কমান্ডার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বীর সেনানী। কাজেই তাকে নির্বিচারে হত্যার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী হামলায় যে বা যারা জড়িত ছিলে তাদের প্রত্যেককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জেনারেল সোলাইমানিকে বহনকারী গাড়ির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন সন্ত্রাসী সেনারা। হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আশ-শাবির উপ প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ দুই দেশের আরো ৮ কমান্ডার শহীদ হন।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে দম্ভভরে ঘোষণা করেন, তিনিই জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বহুবার এ হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন।

মার্কিন সেনারা এমন সময় জেনারেল সোলাইমানির উপর ওই হামলা চালায় যখন তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদির রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে বাগদাদ সফরে গিয়েছিলেন।

সূত্রঃ পার্সটুডে