জুতা দেখিয়ে জনতার হাতে বন্দি চেয়ারম্যান, এমপি এসে উদ্ধার

ঢাকার ধামরাইয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে সাবেক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া ও পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পায়ের জুতা খুলে স্লোগানরতদের জুতাপেটা করতে যাওয়ায় জনতার রোষানলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এক ইউপি চেয়ারম্যান। পরে তাকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

শুক্রবার বাদ জুমা ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বড়হিস্যা জালসা মাদ্রাসা মাঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বালিয়াপাড়া জালসা গ্রামের বাসিন্দা আমেরিকা প্রবাসী মো. আব্দুর রহমান সরকারের সমর্থকরা শুক্রবার বাদ জুমা বড়হিস্যা জালসা মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ বেনজীর আহমদ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদের মোল্লা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী মুরগী কাদের উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আয়োজকরা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমানের পক্ষে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে স্লোগান দিলে বর্তমান চেয়ারম্যান কাদের মোল্লা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মুরগী কাদের তাদের ওপর চড়াও হয়ে পায়ের জুতা খুলে জুতাপেটা করতে যান। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে ওই দুই নেতার সমর্থকরাও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সমর্থকরা চেয়ারম্যান কাদেরকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ বেনজীর আহমদ জনতার তোপের মুখে চেয়ারম্যান কাদেরকে তার গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।

সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি সত্যিই খুব দুঃখজনক। যার জন্ম না হলে এদেশ স্বাধীন হতো না আর তারই শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এমন ঘটনা ন্যক্কারজনক। কোনোভাবেই এটি মেনে নিতে পারছি না। এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত।