জীবিত ফিরে আসা সেই কিশোরীর ঘটনায় দায় এড়ানোর চেষ্টা পুলিশের

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে তিন আসামির জবানবন্দি দেয়ার দেড় মাস পর কথিত মৃত কিশোরী ফিরে আসার ঘটনায় দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। মামলা তুলে না নিতে চাপ দেয়া হচ্ছে বাদীপক্ষকে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, কারাবন্দি তিন যুবককে আরেকটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে মামলা চলমান রাখা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চলছে।

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা মামলার রহস্য উদঘাটনে সোমবার রাতেই জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

একই সাথে পুলিশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জবানবন্দি আদায় ও আসামিদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসনকে প্রধান করে আরো একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন তিন কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম বলেন, ৩ কার্যদিবসের মধ্যে আমাদেরকে রিপোর্ট দেবে যে এখানে তদন্ত কর্মকর্তার কোন ভুল আছে কিনা।

উদ্ধার হওয়া কিশোরী ও গ্রেফতার হওয়া তার কথিত স্বামী ইকবাল পালিয়ে বিয়ে করার বিষয়ে দুইজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ইকবালকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে আদালতে হাজির করলে ২৭ আগস্ট শুনানির তারিখ ধার্য করে তাকে জেল হাজতে পাঠান আদালত।

 

এদিকে মেয়েকে ফিরে পাবার পর তার পরিবার মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন, আইনের ধারা অনুযায়ী সেটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, তদন্তে যদি আসে সে জেনেশুনে এই ধরনের মামলা করা হয়েছে, তাহলে বাদীর জন্য আইন প্রণয়ন আছে।

আর আসামিপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, পুলিশ তাদের দোষ ধামাচাপা দিতে আসামিদের আরো একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে এই মামলা চলমান রাখার প্রক্রিয়া করছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো: রোকন উদ্দিন বলেন, পুলিশের নিজস্ব কুকর্ম বজায় রাখতেই মামলাটি করছে।

তবে পুলিশ সুপার বলছেন, বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সব ধরণের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম বলেন, যারা হাজতে আছেন, তারাও যেন ন্যায় বিচার পায় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি।

গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয় নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ পাক্কা রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী। বাবার দায়ের করা অপহরণ মামলায় একমাস পর একই এলাকার রকিব, আবদুল্লাহ ও খলিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ঘটনার দেড় মাস পর ওই কিশোরী রোববার পরিবারের কাছে ফিরে আসলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।